বেড়ার নাকালিয়া বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, নকল দুধ তৈরির বিপুল উপকরণ জব্দ

0
38

নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে পাবনার বেড়া উপজেলার নাকালিয়া বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে নকল দুধ তৈরির বিপুল পরিমাণ উপকরণ জব্দ করেছে। অভিযানে নকল দুধ তৈরির সময় তিনজন অপ্রাপ্তবয়স্ক কর্মচারীকে হাতেনাতে আটক করা হলেও মুচলেকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বিকেলে নাকালিয়া বাজারের দুটি দোকানে অভিযান চালানো হয়। এ সময় পাম ওয়েল, ক্রিম, ডালডা, ডিটারজেন্ট পাউডার, ইউরিয়া, সোডিয়াম বাই কার্বনেট, আটা, রেজিন ও ছানার পানির সঙ্গে বিভিন্ন রাসায়নিক মিশিয়ে নকল দুধ তৈরির কার্যক্রম চলছিল। অভিযানে শাহীনসহ তিনজনকে আটক করা হয়। শাহীনের জন্মনিবন্ধনে ত্রুটি থাকায় তার দাদি হাফিজা খাতুনকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও বেড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নূরেন মায়িশা খান।

অভিযানকালে নকল দুধ তৈরির উপকরণ ছাড়াও ক্রিম আলাদা করার মেশিন, ব্লেন্ডার ও অন্যান্য অপচনশীল মালামাল জব্দ করে পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নূরেন মায়িশা খান জানান, দীর্ঘদিন ধরে নাকালিয়া বাজারের ওই দুটি দোকানে নকল দুধ তৈরি করে স্থানীয় বাজারসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করা হচ্ছিল—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় দোকান মালিক হাফিজুর রহমান হিরা পালিয়ে যান। মানবস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর নকল দুধ তৈরির সময় তিন কিশোরকে হাতেনাতে ধরা হয়।

তিনি আরও বলেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় নকল ও ভেজাল খাদ্য তৈরির বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।

অভিযানে অংশ নেওয়া বেড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিতাই চন্দ্র রায় জানান, আটক তিনজনই অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় মুচলেকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। পলাতক দোকান মালিক হাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয়রা অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, নকল ও ভেজাল দুধ জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের হুমকি। এ ধরনের অভিযান নিয়মিত হলে ভেজালকারীরা নিরুৎসাহিত হবে এবং সাধারণ মানুষ নিরাপদ খাদ্য পাবে।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ১২ জানুয়ারি সোমবার বেড়া উপজেলার পেঁচাকোলা সরকারপাড়া এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে নকল দুধ তৈরির সময় জয়দেব ঘোষ (৪৫) নামে একজনকে হাতেনাতে আটক করা হয়। সে ঘটনায় তাকে এক বছরের কারাদণ্ড ও দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছিল।