ফ্যামিলি কার্ড নয়, চাঁদাবাজি-জুলুম থেকে বাঁচার কার্ড দিন: মঞ্জু

0
53
ফ্যামিলি কার্ড নয়, চাঁদাবাজি-জুলুম থেকে বাঁচার কার্ড দিন: মঞ্জু

ফেনী-২ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেছেন, ফ্যামিলি কার্ড না দিয়ে চাঁদাবাজি থেকে বাঁচার জন্য এমন একটি কার্ড দেওয়া হোক—যেন চাঁদাবাজ আসলে পকেট থেকে বের করে দেখাতে পারেন যে “তারেক জিয়ার একটা কার্ড আছে”। তিনি আরও বলেন, গুম, খুন, ইভটিজিং ও নারী নির্যাতন থেকে বাঁচতে একটি “নিরাপত্তার কার্ড” চালু করা হলে সবাই খুশি হবে এবং ক্ষমতাসীনদের কাছ থেকে তারা এমন নিরাপত্তার নিশ্চয়তা চান।

শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) দুপুরে ফেনী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। মঞ্জু বলেন, চাঁদাবাজি, জুলুম ও দুর্নীতি থেকে বাঁচার জন্য যদি কোনো কার্ড প্রচলন করা হয়, তাহলে তিনি নিজেও ধানের শীষে ভোট দেওয়ার কথা ভাবতেন।

বক্তব্যে তিনি আওয়ামী লীগকে ইঙ্গিত করে বলেন, দিল্লিতে বসে হুমকি ও ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, “একবার হেলিকপ্টারে দিল্লি পালিয়ে গেছেন, কিন্তু দ্বিতীয়বার সেই সুযোগ পাবেন না।” মঞ্জু আরও বলেন, অনেক রক্তের দাগ এখনও শুকায়নি এবং অনেক মরদেহের পরিচয়ও শনাক্ত হয়নি। এ অবস্থায় একটি বড় দল নির্বাচন চাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, তারা আগেই বলেছিলেন—রক্তের দাগ শুকাতে দেওয়া, শহীদদের হত্যার বিচারপ্রক্রিয়ার পদক্ষেপ নেওয়া এবং ভবিষ্যতে ফ্যাসিবাদ যাতে ফিরে না আসে সে ধরনের সংস্কার সম্পন্ন করা প্রয়োজন।

তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচন শুরু হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ছাত্র সংসদ নির্বাচন “ভণ্ডুল” করার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, নেতাকর্মীদের বহিষ্কার করে “নতুন বাংলাদেশ” গড়ার কথা বলা হলেও পরবর্তীতে ধাপে ধাপে বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে, যা তাদেরকে মর্মাহত করেছে।

মঞ্জু বলেন, এবারের নির্বাচনে জনগণ তাদের পক্ষে রায় দিলে ফেনীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধসহ জনগুরুত্বপূর্ণ চাহিদা পূরণে কাজ করা হবে। তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে তারা নতুন রাজনীতি করতে চান এবং পুরোনো রাজনীতির কারণে দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে; তাই বাংলাদেশকে নতুন পথ দেখানোর লক্ষ্য তাদের।

জনসভাটি সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। এছাড়া বক্তব্য দেন ১১ দলীয় জোটের শরিক দলগুলোর নেতারা, তাদের মধ্যে জাগপার সহসভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম মাসুম, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক ও ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েমসহ অন্যরা। জেলা জামায়াতের আমির মুফতি আবদুল হান্নানের সভাপতিত্বে সভা পরিচালনা করেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আবদুর রহীম।