কলকাতার আনন্দপুরে জোড়া গুদামে ভয়াবহ আগুন: ২৭ মরদেহ উদ্ধার

0
29
কলকাতার আনন্দপুরে জোড়া গুদামে ভয়াবহ আগুন: ২৭ মরদেহ উদ্ধার

পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতার পূর্বাঞ্চলীয় শহরতলী আনন্দপুরের নাজিরাবাদ এলাকায় পাশাপাশি দুটি গুদামে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ২৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।

গত ২৫ জানুয়ারি রাতে নাজিরাবাদে ডেকোরেটরসের একটি গুদাম এবং মোমো ও কোমল পানীয় তৈরির একটি কারখানায় ভয়াবহ আগুন লাগে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সময় ডেকোরেটরসের গুদামের কর্মীরা পিকনিক করছিলেন এবং মোমো কারখানার কর্মীরাও কাজ করছিলেন। কারখানার গুদামটিতে দাহ্য পদার্থের পরিমাণ বেশি ছিল বলেও উল্লেখ করা হয়।

আগুনের সূত্রপাত কোথা থেকে হয়েছে—এ নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, আগুন প্রথমে মোমো কারখানা থেকে ছড়ায়। তবে মোমো কারখানার মালিকপক্ষ তা অস্বীকার করে দাবি করেছে, আগুনের সূত্রপাত পাশের ডেকোরেটরসের গুদাম থেকে।

আনন্দপুর কলকাতার কাছাকাছি হলেও প্রশাসনিকভাবে এটি দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার বারুইপুর মহকুমার অন্তর্ভুক্ত। বারুইপুরের পুলিশ সুপার শুভেন্দ্র কুমার শুক্রবার সন্ধ্যায় বলেন, ঘটনার সময় ঠিক কতজন সেখানে ছিলেন, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। দগ্ধ দেহাংশ দেখে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব নয়, তাই ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করা হবে। তিনি আরও জানান, উদ্ধার হওয়া মরদেহ ও দেহাংশগুলোর নাম-পরিচয় এখনও জানা যায়নি এবং নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

আগুন লাগার কারণও এখনো স্পষ্ট নয়। জোড়া গুদামে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল কি না—তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। মঙ্গলবার ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে পশ্চিমবঙ্গ ফায়ার সার্ভিস বিভাগের ডিজি রণবীর কুমার জানান, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা সংক্রান্ত কোনো অনুমোদন বা ছাড়পত্র ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে ওই গুদাম দুটিকে আগে দেওয়া হয়নি। ফায়ার সার্ভিসের অনুমোদন ছাড়া কীভাবে দীর্ঘদিন ধরে গুদাম দুটি চলছিল, সেটিও তদন্তের বিষয় হয়ে উঠেছে।

অগ্নিকাণ্ডের পর দুই গুদামের মালিক গঙ্গাধর দাস পালিয়ে যান বলে জানানো হয়। পরে মঙ্গলবার গভীর রাতে দক্ষিণ ২৪ পরগনার নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। গঙ্গাধর দাস দাবি করেন, মোমো কারখানা থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। পুলিশ জানায়, তার বাড়ি পূর্ব মেদিনীপুরের খেজুরি এলাকায় এবং তিনি প্রায় ৪০ বছর ধরে ডেকোরেটরস ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত।

ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার এবং ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার শোক প্রকাশ করেছে। রাজ্য সরকার নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে ১০ লাখ রুপি করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এছাড়া ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে ২ লাখ রুপি এবং আহতদের চিকিৎসায় ৫০ হাজার রুপি সহায়তা দেওয়া হবে।