পাকিস্তানে সমন্বিত সন্ত্রাসী হামলায় নিহত ৪৭

0
25
পাকিস্তানে সমন্বিত সন্ত্রাসী হামলায় নিহত ৪৭

পাকিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ বেলুচিস্তানে শনিবার ভোরে একযোগে ১২টি স্থানে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় অন্তত ১০ জন নিরাপত্তা সদস্য নিহত হয়েছেন। হামলাকারীরা পুলিশ, কারাগার এবং আধাসামরিক বাহিনীর স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে এসব হামলা চালায়। পাকিস্তানি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, পাল্টা অভিযানে ৩৭ জন হামলাকারী নিহত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বার্তা সংস্থা এপি এ খবর জানিয়েছে।

পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নাকভি এক বিবৃতিতে বলেন, বিভিন্ন স্থানে হামলার সময় নিরাপত্তা বাহিনীর ১০ সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি পাল্টা অভিযানে ৩৭ জন হামলাকারী নিহত হওয়ার কথা উল্লেখ করে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের প্রশংসা করেন।

নাকভি দাবি করেন, ভারতের মদতপুষ্ট ‘ফিতনা আল হিন্দুস্তান’ গোষ্ঠীর সদস্যরা বেলুচিস্তানজুড়ে ১২টি স্থানে হামলা চালায়। তবে সময়োপযোগী ও কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে তাদের সব হামলা ব্যর্থ করে দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

প্রাদেশিক স্বাস্থ্যমন্ত্রী বখত মুহাম্মদ কাকার জানান, প্রায় একই সময়ে পুরো প্রদেশে হামলা শুরু হয়। রাজধানী কোয়েটায় পুলিশ গাড়িতে গ্রেনেড হামলায় দুই পুলিশ সদস্য নিহত হন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সব সরকারি হাসপাতালে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়।

মাস্তাং জেলায় কারাগারে হামলা চালিয়ে ৩০ জনের বেশি বন্দিকে মুক্ত করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। নুশকি জেলায় আধাসামরিক বাহিনীর সদর দপ্তরে হামলার চেষ্টা প্রতিহত করা হয়। দালবান্দিনে সরকারি প্রশাসকের কার্যালয়ে গ্রেনেড নিক্ষেপের ঘটনা ঘটলেও নিরাপত্তা বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। এ ছাড়া বালিনচা, তুম্প ও খারান জেলার নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার চেষ্টাও ব্যর্থ হয়েছে। পাসনি ও গওয়াদরে যাত্রী অপহরণের চেষ্টাও পুলিশ প্রতিহত করেছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী কাকার সহিংসতার জন্য নিষিদ্ধ ঘোষিত বেলুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)-কে দায়ী করেন। যুক্তরাষ্ট্রও সংগঠনটিকে সন্ত্রাসী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। পাকিস্তানের অভিযোগ, ভারত এই গোষ্ঠীকে সমর্থন দিচ্ছে—যা নয়াদিল্লি বারবার অস্বীকার করেছে। পাকিস্তান আরও দাবি করে, এসব গোষ্ঠী আফগানিস্তানকে ব্যবহার করে পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে, যদিও কাবুলও এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।