ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে জামায়াতের ইউনিয়ন আমিরসহ অন্তত ১০ জন এবং বিএনপির ৫ কর্মী আহত হয়েছেন। আহতদের বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর আহত জামায়াতের দুই কর্মীকে ভোলা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বোরহানউদ্দিন উপজেলার টবগী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মুলাইপত্তন গ্রামের চৌকিদার বাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের ঘটনায় দুই পক্ষই একে অপরকে দায়ী করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সকালে টবগী ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা আব্দুল হালিমের নেতৃত্বে ২০-৩০ জনের একটি দল ভোলা-২ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মাওলানা মুফতি ফজলুল করিমের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছিল। এ সময় তারা বিএনপি কর্মী আয়ুব আলীর বাড়িতে প্রচারণার জন্য প্রবেশ করলে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ লাঠিসোঁটা হাতে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পরে যৌথবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
আহতদের মধ্যে জামায়াতের পক্ষ থেকে টবগী ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা আব্দুল হালিম, মো. ফয়জুল্লাহ, মো. ইমন, শাহেল আলম, মো. রাইহান, মো. শামীম, রাতুল ও তানজিলের নাম জানা গেছে। বিএনপির আহতদের মধ্যে রয়েছেন আয়ুব আলী, শিমু বেগম, মো. বাবু, শামিম ও উজ্জলা বিবি।
বোরহানউদ্দিন উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মাকসুদুর রহমান বলেন, তাদের নেতাকর্মীরা প্রচারণা চালানোর সময় বিএনপির কর্মী আয়ুব আলী ও তার ভাইয়ের নেতৃত্বে হামলা চালানো হয়েছে এবং এতে ১০-১২ জন আহত হয়েছেন। তিনি জানান, গুরুতর আহত দুইজনকে ভোলা জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে এবং তারা আইনানুগ ব্যবস্থা নেবেন।
অন্যদিকে বোরহানউদ্দিন উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট কাজী মো. আজম জামায়াতের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, জামায়াতের নেতাকর্মীরাই তাদের কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে, অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন এবং বাড়িঘরে হামলা ও ভাঙচুর হয়েছে। তিনিও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান।
বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি, অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।