দেশের ১৮ কোটি মানুষের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা কঠিন কাজ বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রাম ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে আয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করা হয় না—এ ধরনের অভিযোগ প্রায়ই শোনা যায়। তিনি বলেন, “এখানে আপনারা কয়জন সাংবাদিক, এই কয়জনের কথা বলাটাও বন্ধ করতে অনেক সময় লেগে যায়। তো দেশের ১৮ কোটি লোকের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা অনেক ডিফিকাল্ট কাজ।”
তিনি জানান, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন হবে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রস্তুতি “বেশ ভালো”। নির্বাচন ঘিরে কোনো ধরনের অসুবিধা হবে না বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সহিংসতার বিষয়ে তিনি বলেন, যেসব সহিংসতার ঘটনা ঘটছে তার বেশিরভাগই নিজেদের দলের ভেতরের। তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, কোনো অনুষ্ঠানে একজনকে দাওয়াত দিলে দুজন চলে আসে; এরপর সিদ্ধান্তের অমিল হলে নিজেরাই সংঘাতে জড়ায়। এ জন্য জনসচেতনতা জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
প্রার্থীদের আচরণবিধি লঙ্ঘন প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, প্রতিদিনই প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং দু-একটি আসনে ছোটখাটো লঙ্ঘন হচ্ছে বলে তিনি স্বীকার করেন।
নির্বাচনের সময় ইন্টারনেট বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা নিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনকালে ইন্টারনেট সংযোগ খোলা থাকবে। কেউ বন্ধ করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি গুজব বা মিথ্যা সংবাদ ছড়ানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আগে স্বাধীনভাবে লেখা বা প্রশ্ন করা সম্ভব ছিল না, এখন যেভাবে প্রশ্ন করা যাচ্ছে তা বর্তমান সরকারের দেওয়া মতপ্রকাশের স্বাধীনতার কারণে। তবে তিনি বলেন, মিথ্যা নয়—সত্য সংবাদ পরিবেশন করতে হবে।
নারীদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভোটকেন্দ্রে নারীরাও নিরাপদ থাকবেন। এছাড়া জঙ্গল সলিমপুরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনার কথাও জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, চট্টগ্রামে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো রয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে দেওয়া হবে না বলেও তিনি জানান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশ সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
এ সময় চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা উপস্থিত ছিলেন।