র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) গুলিতে পা হারানো লিমন হোসেনকে দুই কোটি ৬০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে অভিযুক্ত র্যাব কর্মকর্তাদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।
আদালতে লিমনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন ব্যারিস্টার সারা হোসেন, আইনজীবী কাজী জাহেদ ইকবাল, আবদুল্লাহ আল নোমান এবং ব্যারিস্টার প্রিয়া আহসান চৌধুরী। এর আগে র্যাবের গুলিতে আহত হয়ে পা হারানোর ঘটনায় ক্ষতিপূরণ চেয়ে লিমন হোসেন হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন।
রিটে উল্লেখ করা হয়, ২০১১ সালের ২৩ মার্চ বিকেলে ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার জমাদ্দারহাট এলাকায় র্যাবের অভিযানের সময় লিমন গুলিবিদ্ধ হন। লিমনের ভাষ্য অনুযায়ী, র্যাব সদস্যরা তাকে ধরে নিয়ে পায়ে গুলি করে। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে তার বাঁ পা কেটে ফেলতে বাধ্য হন চিকিৎসকেরা।
ঘটনাটি ঘটে তার উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার মাত্র ১২ দিন আগে। তখন লিমনের বয়স ছিল ১৬ বছর এবং ওই বছর তার পরীক্ষা দেওয়া সম্ভব হয়নি। তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থাতেও পড়াশোনা চালিয়ে যান। পরের বছর পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার কাঁঠালিয়া পিজিএস বহুমুখী স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ ৪ পান। পরে তিনি সাভারের গণবিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন এবং বর্তমানে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন।