ভৈরবে কলেজছাত্র হত্যাকাণ্ড: কুখ্যাত ছিনতাইকারী মেরাজ মিয়াসহ গ্রেপ্তার ২

0
28
ভৈরবে কলেজছাত্র হত্যাকাণ্ড: কুখ্যাত ছিনতাইকারী মেরাজ মিয়াসহ গ্রেপ্তার ২

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে রেলওয়ে জংশন স্টেশনের অদূরে কলেজ শিক্ষার্থী আবু সুফিয়ান ওরফে শাহ আলম (১৭) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত কুখ্যাত ছিনতাইকারী মেরাজ মিয়াসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে রেলওয়ে থানা পুলিশ।

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে ভৈরব উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। গ্রেপ্তাররা হলেন ভৈরব উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের বাঁশগাড়ি গ্রামের মুর্শেদ মিয়ার ছেলে মেরাজ মিয়া (২৫) এবং ভৈরব শহরের পঞ্চবটি এলাকার জয়নাল মিয়ার ছেলে ইব্রাহিম (২৪)। পুলিশ জানিয়েছে, মেরাজের বিরুদ্ধে ভৈরবের বিভিন্ন থানায় অন্তত ১৪টি মামলা রয়েছে এবং ইব্রাহিমের বিরুদ্ধেও একাধিক মামলা আছে।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) ফুফার মৃত্যুবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা দেয় আবু সুফিয়ান। সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে আন্তঃনগর এগারসিন্ধু গোধুলী এক্সপ্রেস ট্রেনে ওঠার পর সে মাকে বাড়ি ফেরার কথা জানায়। কিন্তু রাত ১২টা পেরিয়ে গেলেও বাড়ি না পৌঁছানোয় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন এবং ওই সময় থেকে তার মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। পরে রাত আনুমানিক ২টার দিকে ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনের কাছের নিউটাউন এলাকার রেললাইনের পাশ থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

পরদিন শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) নিহতের আঙুলের ছাপ সংগ্রহ করে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যভান্ডার থেকে পরিচয় শনাক্ত করে। পরে স্বজনরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি আবু সুফিয়ানের বলে নিশ্চিত করেন।

নিহত আবু সুফিয়ান কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার কর্শাকড়িয়াল ইউনিয়নের বাদে করিয়াল গ্রামের অটোচালক আবু তাহেরের একমাত্র ছেলে। সে ঢাকার পল্লবী সরকারি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিল। তার মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

এ ঘটনায় রোববার নিহতের বাবা আবু তাহের ভৈরব রেলওয়ে থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

ভৈরব রেলওয়ে থানার ওসি সাঈদ আহমেদ জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যেই তাকে হত্যা করা হয়েছে। গ্রেপ্তার আসামিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের ধরতে অভিযান চলছে।