এনসিটি ইজারা ইস্যুতে চট্টগ্রাম বন্দরে বুধবার থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি ঘোষণা

0
28
এনসিটি ইজারা ইস্যুতে চট্টগ্রাম বন্দরে বুধবার থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি ঘোষণা

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শ্রমিক-কর্মচারী সংগঠনের নেতারা অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি ঘোষণা করেছেন। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বন্দর এলাকায় আয়োজিত এক অবরোধ কর্মসূচি থেকে চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম খোকন জানান, আগামীকাল বুধবার সকাল আটটা থেকে এ কর্মসূচি শুরু হবে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তা চলবে।

ইব্রাহিম খোকন বলেন, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার পক্ষ থেকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং আন্দোলন ঘিরে কর্মীদের বদলি করা ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে শাস্তির কথা বলা হচ্ছে। এসব বিবেচনায় নিয়ে তারা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান তিনি।

এর আগে মঙ্গলবার সকাল আটটা থেকে শ্রমিক-কর্মচারীরা ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতি শুরু করেন। এতে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের পণ্য আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম কার্যত অচল হয়ে পড়ে। শ্রমিকদের দাবির মধ্যে রয়েছে এনসিটি জেটি বিদেশি প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা না দেওয়া, বন্দর চেয়ারম্যানের পদত্যাগ এবং আন্দোলনকে কেন্দ্র করে জারি হওয়া বদলির আদেশগুলো বাতিল করা।

শ্রমিক-কর্মচারীরা বলছেন, বর্তমানে এনসিটি, চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) ও জেনারেল কার্গো বার্থসহ বিভিন্ন টার্মিনালে অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ আছে। শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ) জানিয়েছে, কনটেইনার ও সাধারণ পণ্য ওঠানামা পুরোপুরি বন্ধ থাকায় বন্দরের সামগ্রিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে।

আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে সকালে চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ এলাকায় শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ বিক্ষোভ মিছিল করে। সমাবেশ শেষে মিছিলটি বন্দর অভিমুখে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবির অভিযোগ করেন, সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ না নিয়ে কর্তৃপক্ষ দমন-পীড়ন ও বদলির মাধ্যমে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে।

এদিকে চার দিন ধরে জেটিতে জাহাজ অপেক্ষমাণ থাকা এবং পণ্য পরিবহন বন্ধ থাকায় বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। বিজিএমইএর সহসভাপতি সেলিমুর রহমান বলেন, অচলাবস্থার কারণে আমদানিতে ব্যয় বাড়ছে এবং পোশাক খাতের রপ্তানি শিডিউল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।