জাপানে ভারি তুষারঝড়ে নিহত ৩০, জনজীবন স্থবির

0
21
জাপানে ভারি তুষারঝড়ে নিহত ৩০, জনজীবন স্থবির

জাপানের সাগর উপকূলে তীব্র তুষারঝড়ে দেশটির জীবনযাত্রা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। মাত্রাতিরিক্ত তুষারপাতের কারণে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৩০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে ৯১ বছর বয়সী এক বৃদ্ধও রয়েছেন। তিনি তার বাড়ির বাইরে প্রায় তিন মিটার উঁচু তুষারের নিচে চাপা পড়েছিলেন।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে জাপানের সাগর উপকূলীয় অঞ্চলে প্রচণ্ড ঠান্ডা বাতাসের কারণে স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি তুষারপাত হয়েছে। বিশেষ করে আওমোরি প্রদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, ২০ জানুয়ারি থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত এই ভারি তুষারপাতের ফলে মোট ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

আওমোরির আজিগাসাওয়া এলাকায় ৯১ বছর বয়সী কিনা জিন নামে এক বৃদ্ধের মৃতদেহ তার বাড়ির বাইরে তুষারের নিচে পাওয়া গেছে। পুলিশ ধারণা করছে, তার ঘরের ছাদ থেকে তুষারের বড় অংশ পড়ে তার ওপর চাপা পড়েছিল। মৃতদেহের পাশে একটি অ্যালুমিনিয়াম বেলচা পাওয়া গেছে। পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তুষার জমে থাকা এবং পরে গলে পড়া পরিস্থিতি বয়স্কদের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক।

জাপানী প্রধানমন্ত্রী সানে তাকাইচি মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ পর্যায়ের বিশেষ বৈঠক করে প্রশাসনিক ও স্থানীয় কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে মৃত্যুর সংখ্যা ও দুর্ঘটনা কমানো যায়। কেন্দ্রীয় সরকার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় সৈন্য মোতায়েন করেছে এবং বয়স্কদের সহায়তার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। আওমোরির গভর্নর সোইচিরো মিয়াশিতা জানিয়েছেন, সেনাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে একা থাকা বয়স্কদের তুষার পরিষ্কারে সাহায্য করতে।

স্থানীয়ভাবে দেখা গেছে, আওমোরি শহরের বিভিন্ন এলাকায় মাটিতে ১.৮ মিটার পর্যন্ত তুষারের প্রাচীর তৈরি হয়েছে। রাস্তা, গলি ও ঘরবাড়ি থেকে তুষার পরিষ্কার করতে গিয়ে অনেক স্থানীয় কর্মীও বিপদের মুখে পড়েছেন। কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন, তুষারের আকার এবং তাপমাত্রার ওপর নির্ভর করে গলে যাওয়া তুষার অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে।

ভারি তুষারঝড়ের কারণে জাপানের উপকূলীয় অঞ্চলে মানবিক ও যাতায়াত সমস্যা তীব্র আকার নিয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও সেনাবাহিনী বয়স্কদের সাহায্য, তুষার পরিষ্কার এবং দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কাজ করলেও, পরিস্থিতি এখনও বিপজ্জনক এবং জনজীবনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।

তথ্যসূত্র : এএফপি, আরব নিউজ, জাপান নিউজ