টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলবে পাকিস্তান, ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা

0
22
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলবে পাকিস্তান, ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা

গত কয়েক দিন ধরে ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের অংশগ্রহণ নিয়ে চলা জল্পনার অবসান ঘটিয়ে পাকিস্তান ক্রিকেট দলকে টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার অনুমোদন দিয়েছে দেশটির সরকার। তবে একই সঙ্গে ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত ম্যাচটি বয়কট করার ঘোষণাও এসেছে। পাকিস্তান সরকারের অফিশিয়াল ‘এক্স’ হ্যান্ডল ও ফেসবুক পেজে একযোগে দেওয়া পোস্টে বলা হয়েছে, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে পাকিস্তান দল মাঠে নামবে না। কেন এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে পোস্টে কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করা হয়নি।

প্রতিবেদনের বর্ণনায় বলা হয়, এবারের বিশ্বকাপে পাকিস্তানের অংশগ্রহণ নিয়ে একসময় অনিশ্চয়তা তৈরি হয় বাংলাদেশকে ঘিরে একটি ঘটনার পর। সেখানে দাবি করা হয়, আইপিএলে বাংলাদেশের পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে কলকাতা নাইট রাইডার্স থেকে বাদ দেওয়া এবং পরবর্তীতে নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা বলে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ভেন্যু পরিবর্তনের অনুরোধ—এ সবকিছুর পর আইসিসি বাংলাদেশকে পূর্বসূচি অনুযায়ী ভারতেই খেলতে বলেছিল। বিসিবি অনড় থাকায় পরে আইসিসি বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করে—এমন দাবিও প্রতিবেদনে রয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বাংলাদেশের ভেন্যু পরিবর্তনের দাবির পক্ষে পাকিস্তানই সবচেয়ে জোরালোভাবে অবস্থান নিয়েছিল এবং আইসিসির বিরুদ্ধে ভারতের পক্ষ নেওয়ার অভিযোগ তুলেছিল। পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি বাংলাদেশের সঙ্গে ‘অন্যায়’ হওয়ার কথা উল্লেখ করে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, বাংলাদেশকে খেলতে না দিলে পাকিস্তানও সিদ্ধান্ত নিতে পারে। পরে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফের সঙ্গে বৈঠকের পর নাকভি জানিয়েছিলেন, বিষয়টি নিয়ে “সমস্ত বিকল্প খোলা” রেখে সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

পিসিবি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিশ্বকাপ স্কোয়াড ঘোষণা করায় তখন থেকেই গুঞ্জন ছিল, পাকিস্তান পুরো টুর্নামেন্ট বর্জন না করে শুধু ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কট করতে পারে। শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান সরকারের ঘোষণায় সেটিই বাস্তবে পরিণত হলো। তবে ভারতের বিপক্ষে না খেলার বিষয়ে পিসিবি এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেয়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনের তথ্যমতে, এবার পাকিস্তান রয়েছে ‘এ’ গ্রুপে—ভারত ছাড়াও তাদের সঙ্গে আছে নামিবিয়া, নেদারল্যান্ডস ও যুক্তরাষ্ট্র। শ্রীলঙ্কার মাঠেই পাকিস্তানের সব ম্যাচ হওয়ার কথা। সূচি অনুযায়ী ৭ ফেব্রুয়ারি নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে পাকিস্তানের বিশ্বকাপ শুরু, ১০ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে, ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিপক্ষে (বয়কট), এবং ১৮ ফেব্রুয়ারি নামিবিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ। ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বর্জন করলে পাকিস্তান সরাসরি দুই পয়েন্ট হারাবে এবং আইসিসির প্লেয়িং কন্ডিশন অনুযায়ী নেট রান রেট হিসাবেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে—এমনটাই প্রতিবেদনে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

এদিকে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, পাকিস্তানের ‘বেছে বেছে’ ম্যাচ খেলার সিদ্ধান্তে আইসিসি অসন্তুষ্ট। আইসিসির বক্তব্য হিসেবে তুলে ধরা হয়, বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে সব দলের জন্য একই নিয়ম প্রযোজ্য—কিন্তু কোনো দল যদি নির্বাচন করে ম্যাচ খেলে, তাহলে তা টুর্নামেন্টের চেতনা ও মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করতে পারে। একই সঙ্গে আইসিসি আশা প্রকাশ করেছে, পিসিবি এমন সমাধান খুঁজবে যাতে ক্রিকেটের স্বার্থ রক্ষা হয় এবং দীর্ঘমেয়াদে বৈশ্বিক ক্রিকেট ইকোসিস্টেমে নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে।

অন্যদিকে পাকিস্তান বয়কট করলেও ভারত তাদের প্রস্তুতি ও প্রটোকল অনুযায়ী করণীয় চালিয়ে যাবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। বার্তা সংস্থা এএনআইকে ভারতীয় বোর্ডের এক কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, ভারতীয় দল শ্রীলঙ্কায় যাবে, অনুশীলন করবে, সংবাদ সম্মেলন করবে এবং ম্যাচের দিন সময়মতো মাঠে উপস্থিত থেকে ম্যাচ রেফারির সিদ্ধান্তের অপেক্ষা করবে।

প্রতিবেদনের শেষাংশে বলা হয়েছে, ১৫ ফেব্রুয়ারি ম্যাচটি কলম্বোর আর. প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে হওয়ার কথা।