‘রহস্যময়’ মিষ্টি খেয়ে ৩ দিনে তিনজনের মৃত্যু

0
36
‘রহস্যময়’ মিষ্টি খেয়ে ৩ দিনে তিনজনের মৃত্যু

ভারতের মধ্যপ্রদেশের ছিন্দওয়াড়া জেলায় একটি পরিত্যক্ত মিষ্টির বাক্সকে ঘিরে টানা তিন দিনে তিনজনের মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শুরুতে ঘটনাগুলোকে খাদ্যে বিষক্রিয়া বলে মনে করা হলেও পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের ভয়াবহ চিত্র। মূল লক্ষ্য ছিলেন এক তরুণী, তবে সেই ষড়যন্ত্রে প্রাণ হারান আরও দুজন নিরীহ মানুষ। 

ঘটনাটি শুরু হয় ৯ জানুয়ারি। ছিন্দওয়াড়ার জুননারদেও এলাকায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের (পিএইচইডি) অফিসের কাছে ঝুলন্ত অবস্থায় একটি ব্যাগ পড়ে থাকতে দেখা যায়। ব্যাগের ভেতরে ছিল কিছু সবজি ও একটি মিষ্টির বাক্স। দীর্ঘ সময় কেউ সেটির মালিকানা দাবি না করায় কৌতূহলবশত সেটিই হয়ে ওঠে মৃত্যুর কারণ।

প্রথমে ওই মিষ্টি খান ৫০ বছর বয়সি নিরাপত্তারক্ষী দাশরু যাদুবংশী। মিষ্টি খাওয়ার পর তিনি তীব্র বমি ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হন এবং ১১ জানুয়ারি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। ময়নাতদন্ত না হওয়ায় তখন বিষয়টি তেমন গুরুত্ব পায়নি।

পরবর্তীতে একই মিষ্টির বাক্সটি নিকটবর্তী এক দোকানির পরিবার বাড়িতে নিয়ে যায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই ২২ বছর বয়সি খুশবু কথুরিয়া, তার ৭২ বছর বয়সি দাদা এবং পরিবারের আরও কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েন। চিকিৎসা দেওয়া হলেও খুশবু ও তার দাদার মৃত্যু হয়। তবে খুশবুর মা ও বোন প্রাণে বেঁচে যান।

একই মিষ্টির সঙ্গে জড়িত তিনটি মৃত্যু পুলিশকে নতুন করে তদন্তে বাধ্য করে। অনুসন্ধানে জানা যায়, খুশবু বিয়ের পর শ্বশুরবাড়িতে নির্যাতনের শিকার হন এবং ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে এ নিয়ে অভিযোগ করেছিলেন। এতে সমাজে তার শ্বশুরের পরিবার অপমানিত হয় বলে তদন্তকারীদের ধারণা।

পুলিশের অভিযোগ, প্রতিশোধ নিতে খুশবুর শ্বশুর ঝাড়ু কাসার, দেবর শুভম ও ননদ শিবানী মিলে পরিকল্পিতভাবে মিষ্টির মধ্যে আর্সেনিক মিশিয়ে তা খুশবুর বাবার দোকানের আশপাশে ফেলে রাখেন। উদ্দেশ্য ছিল—খুশবু বা তার পরিবারের কেউ মিষ্টিটি খাবে। তবে পরিকল্পনার বাইরে গিয়ে প্রথমে মিষ্টিটি খেয়ে ফেলেন এক নিরাপত্তারক্ষী।

ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরির প্রতিবেদনে বলা হয়, মিষ্টিতে আর্সেনিকের পরিমাণ অনুমোদিত মাত্রার চেয়ে প্রায় হাজার গুণ বেশি ছিল, যা একাধিক মানুষকে হত্যার জন্য যথেষ্ট।

প্রযুক্তিগত ও সাইবার প্রমাণের মাধ্যমে অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হয়েছে। পুলিশ অপরাধে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ও মোবাইল ফোন জব্দ করেছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১০৩(১) ধারা অনুযায়ী হত্যা ও ফৌজদারি ষড়যন্ত্রের মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই ষড়যন্ত্রে আরও কেউ জড়িত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

সূত্র: এনডিটিভি