আশুলিয়ায় সাত হত্যার মামলায় সাবেক এমপি সাইফুল ইসলামসহ ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৬ জনের যাবজ্জীবন

0
33
আশুলিয়ায় সাত হত্যার মামলায় সাবেক এমপি সাইফুল ইসলামসহ ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৬ জনের যাবজ্জীবন

জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালে ঢাকার আশুলিয়ায় ছয়জনের মরদেহ পোড়ানোসহ সাতজনকে হত্যার মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ঢাকা-১৯ আসনের সাবেক এমপি মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, ঢাকা রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম এবং আশুলিয়া থানার তৎকালীন ওসি এএফএম সায়েদ রনিসহ সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই রায়ে অন্য আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং রাজসাক্ষী হওয়ায় পুলিশের সাবেক উপপরিদর্শক (এসআই) শেখ আবজালুল হককে খালাস (ক্ষমা) দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই রায় ঘোষণা করেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাতজন হলেন সাবেক এমপি মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম (পলাতক), বিশ্বজিৎ সাহা (পলাতক), রনি ভূইয়া (পলাতক), সাবেক এসআই আব্দুল মালেক, সাবেক কনস্টেবল মুকুল চোকদার, সাবেক ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম (পলাতক) এবং আশুলিয়া থানার তৎকালীন ওসি এএফএম সায়েদ রনি (পলাতক)। রায়ে সাবেক এমপি সাইফুল ইসলামের সব সম্পত্তি রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এএফএম সায়েদ রনিকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে।

রায়ে ছয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তারা হলেন ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, সাভার সার্কেলের সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শহিদুল ইসলাম, ডিবির সাবেক পরিদর্শক আরাফাত হোসেন আরজু, মো. আসাদুজ্জামান রিপন (পলাতক), মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান (পলাতক) এবং নির্মল কুমার দাস (পলাতক)।

এ ছাড়া সাবেক এসআই আরাফাত উদ্দিন এবং কামরুল হাসানকে (পলাতক) সাত বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাদের যথাক্রমে ৫ হাজার টাকা ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। মামলার রাজসাক্ষী হওয়ায় সাবেক এসআই শেখ আবজালুল হককে ক্ষমা করা হয়েছে।

ট্রাইব্যুনালের তথ্য অনুযায়ী, মামলার ১৬ আসামির মধ্যে আটজন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন এবং আটজন পলাতক। মামলায় প্রসিকিউশন মোট ৫৩ জনকে সাক্ষী হিসেবে তালিকাভুক্ত করে। গত বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়ে চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি শেষ হয়। পরে যুক্তিতর্ক ও পাল্টা যুক্তিতর্ক শেষে ২০ জানুয়ারি মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখা হয়।

এ ঘটনায় শহীদ হয়েছেন সাজ্জাদ হোসেন সজল, আস সাবুর, তানজিল মাহমুদ সুজয়, বায়োজিদ বোস্তামী, আবুল হোসেন, ওমর ফারুক এবং মোহাম্মদ শাহাবুল ইসলাম।