চট্টগ্রাম বন্দরের আন্দোলন স্থগিতের পর ‘হার্ডলাইনে’ কর্তৃপক্ষ, ১৫ শ্রমিক নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

0
40
চট্টগ্রাম বন্দরের আন্দোলন স্থগিতের পর ‘হার্ডলাইনে’ কর্তৃপক্ষ, ১৫ শ্রমিক নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

চট্টগ্রাম বন্দরে চলমান আন্দোলন দুদিনের জন্য স্থগিত ঘোষণার পরপরই কঠোর প্রশাসনিক অবস্থান নিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। আন্দোলনের কারণে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়া এবং জাতীয় অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাবের প্রেক্ষাপটে ১৫ জন শ্রমিক নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত এসব শ্রমিক নেতার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তদন্ত চেয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) আবেদন করা হয়েছে। পাশাপাশি তারা যাতে দেশত্যাগ করতে না পারেন, সে জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সংস্থাগুলোকে অবহিত করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিমের সই করা একটি চিঠি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর পাঠানো হয়। চিঠির অনুলিপি নৌপরিবহন উপদেষ্টার দপ্তর, দুদক এবং জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার মহাপরিচালকের কাছেও পাঠানো হয়েছে।

চিঠিতে উল্লেখ করা ১৫ জনের মধ্যে রয়েছেন চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবীর ও মো. ইব্রাহিম খোকন। আন্দোলনের সময় তাদের যথাক্রমে মোংলা ও পায়রা বন্দরে বদলি করা হয়। তালিকায় আরও আছেন মো. ফরিদুর রহমান, মোহাম্মদ শফি উদ্দিন, রাশিদুল ইসলাম, আবদুল্লাহ আল মামুন, মো. জহিরুল ইসলাম, খন্দকার মাসুদুজ্জামান, মো. হুমায়ুন কবীর (এসএস পেইন্টার), মো. শাকিল রায়হান, মানিক মিঝি, মো. শামসু মিয়া, মো. লিয়াকত আলী, আমিনুর রসুল বুলবুল ও মো. রাব্বানী।

মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত এবং তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত কার্যক্রম চলমান। এ কারণে তারা যেন দেশত্যাগ করতে না পারেন, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে দুদকে পাঠানো চিঠিতে তাদের সম্পদ তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে।

উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ডিপি ওয়ার্ল্ডকে লিজ দেওয়ার প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে গত ৩১ জানুয়ারি থেকে কর্মবিরতি পালন শুরু করে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ। ৪ ফেব্রুয়ারি থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মসূচি শুরু হলে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যসহ বন্দরের প্রায় সব অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম সফর করেন অন্তর্বর্তী সরকারের নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন। দফায় দফায় বৈঠকের পর তার আশ্বাসে শ্রমিকরা শুক্রবার ও শনিবার—দুদিনের জন্য আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দেন।

শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে উপদেষ্টা বলেন, রোজার আগে বন্দর অচল করে আন্দোলন করা অমানবিক। এতে বিমানের জ্বালানি সরবরাহসহ গুরুত্বপূর্ণ খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। তিনি জানান, আন্দোলনের কারণে যে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে, তা নিরূপণে একটি ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশন পরিচালনা করা হবে এবং প্রয়োজনে সরকার আরও কঠোর পদক্ষেপ নেবে।