নতুন বাংলাদেশ হবে জনকল্যাণমুখী, কোনো ব্যক্তি বা দলের সন্তুষ্টির জন্য নয়: জামায়াত আমির

0
45
নতুন বাংলাদেশ হবে জনকল্যাণমুখী, কোনো ব্যক্তি বা দলের সন্তুষ্টির জন্য নয়: জামায়াত আমির

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশবাসী এখন কোনো দল, গোষ্ঠী বা পরিবারতান্ত্রিক বিজয় ও শাসন নয়, বরং নতুন বাংলাদেশ ও নতুন ব্যবস্থাপনা দেখতে চায়। তিনি বলেন, এই নতুন বাংলাদেশ হবে জনকল্যাণমুখী, যা কোনো ব্যক্তি বা দলের সন্তুষ্টির জন্য নয়, জনগণের কল্যাণের লক্ষ্যেই পরিচালিত হবে।

শুক্রবার বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা সদরের আরসি কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যারা নিজের দল সামলাতে পারে না, তারা দেশও সামলাতে পারবে না। আর যারা নিজের দল সামলাতে সক্ষম, তারাই দেশ পরিচালনার যোগ্য। তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সেই সক্ষমতা ইতোমধ্যে প্রমাণ করেছে।

তিনি বলেন, নতুন করে কোনো চোর বা লুটেরা তৈরি করা হবে না। তার মতে, দেশের ব্যাংকিং খাত বর্তমানে টিকে থাকার লড়াইয়ে আছে এবং সামনে অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ আরও বড় হবে। তবে সৎ ও দক্ষ মানুষদের দায়িত্ব দেওয়া হলে এই সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব। যারা সংশোধনের সুযোগ নেবে না, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে বলেও তিনি জানান।

ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, দেশের বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়েছে এবং যারা এই লুটপাটের সঙ্গে জড়িত, তারা কখনো সেই টাকা দেশে ফিরিয়ে আনতে চাইবে না। বরং সুযোগ পেলে আবারও দেশ লুটে খেতে চাইবে। তিনি দাবি করেন, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় এলে পাচারকারীদের আইনের আওতায় এনে লুটের টাকা উদ্ধার করা হবে।

বিচার ব্যবস্থার বিষয়ে তিনি বলেন, সরকারি দল ও বিরোধী দলের জন্য আলাদা বিচার চলবে না। একই অপরাধে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষেত্রেও একই আইন প্রয়োগ করা হবে।

দুর্নীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শুধু ছোটখাটো চোর নয়, বরং রাঘব বোয়াল ও গডফাদারদের আইনের আওতায় আনা হবে। চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, দুর্নীতি বন্ধ হলে মানুষের জীবনে অর্ধেক শান্তি ফিরে আসবে।

তিনি আরও দাবি করেন, জামায়াতে ইসলামী কখনো হারাম কাজে জড়ায় না এবং তাদের কোনো কর্মী চাঁদাবাজি, দখলদারি বা মামলা বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত নয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ৬ আগস্টের পর টানা ১৫ দিন সারা দেশে জামায়াতের কর্মীরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করেছে।

৫ আগস্টের পরিবর্তনের পর প্রতিশোধের রাজনীতি না করার ঘোষণা দিয়েছিলেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, শহীদ পরিবার ও ক্ষতিগ্রস্তদের ন্যায্য বিচারের অধিকার রয়েছে, তবে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তিকে মামলায় জড়ানো যাবে না। তিনি অভিযোগ করেন, কোথাও কোথাও শত শত আসামি দিয়ে মামলা করে বাণিজ্য করা হচ্ছে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াতে ইসলামীর ১১ জন নেতাকে বিচারিক হত্যার মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে। পরে একজন বেঁচে যাওয়া নেতাকে আদালত মুক্তি দিয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি বলেও তিনি দাবি করেন।

তিনি আরও বলেন, গত সাড়ে ১৫ বছরে ব্যাংক, বীমা, শেয়ারবাজার ও মেগা প্রকল্পের নামে ব্যাপক লুটপাট হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, এই সময়ে প্রায় ২৮ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে, যা কয়েকটি জাতীয় বাজেটের সমান।

অতীত রাজনীতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, শেখ মুজিবুর রহমান ও জিয়াউর রহমান উভয়েই দেশ পরিচালনার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু পরবর্তী সময়ের অস্থিরতা ও হত্যাকাণ্ডের কারণে বাংলাদেশ বারবার বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে।