আমি মানুষের কথা বলতেই থাকবো, সমালোচনা আমি পরোয়া করি না: মির্জা ফখরুল

0
38
আমি মানুষের কথা বলতেই থাকবো, সমালোচনা আমি পরোয়া করি না: মির্জা ফখরুল

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে নিয়ে প্রচুর সমালোচনা হয়, তবে তিনি এসবের তোয়াক্কা করেন না। তিনি দাবি করেন, সমালোচনা হয় মূলত এ কারণে যে তিনি সাধারণ মানুষের কথা, মানবিক মূল্যবোধ এবং অসাম্প্রদায়িকতার কথা বলেন। তিনি বলেন, “আমি মানুষের কথা বলতেই থাকবো, সমালোচনা আমি পরোয়া করি না। আমার ধর্ম আমাকে শেখায় অন্যের ধর্মকে আঘাত না করতে।”

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে ঠাকুরগাঁও পৌর শহরের জাগরণী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এক নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, হিন্দু-মুসলমান সবাই নিজ নিজ ধর্মে বিশ্বাস করে এবং এই ধর্মবিশ্বাসকে সম্মান করতে হবে। “ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার”—এই নীতিতে অটল থাকার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশকে বিভাজন থেকে দূরে রেখে সত্যিকার অর্থে শান্তিময় দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর এই নির্বাচন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, এই নির্বাচনে দেশের মানুষকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে—বাংলাদেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়া হবে নাকি পেছনে টেনে নেওয়া হবে, দেশ যাবে বিভাজনের পথে নাকি ঐক্যের পথে।

নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে মির্জা ফখরুল বলেন, তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা এবং অসাম্প্রদায়িক রাজনীতিতে বিশ্বাসী। তিনি বলেন, “আমি সাম্প্রদায়িকতা বিশ্বাস করি না। আমি এই সিদ্ধান্তগুলোতে এক চুলও নড়বো না। আমাদের রাজনীতি হবে সম্পূর্ণ অসাম্প্রদায়িক রাজনীতি—মানুষের কল্যাণের জন্য, এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী।”

তিনি আরও বলেন, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করেনি এবং ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগিতা করেছে, তাদের পক্ষে থাকা সম্ভব নয়। তার ভাষায়, ১৯৭১ সালে গণহত্যা ও নির্যাতনের সহযোগীরা এখনও ক্ষমা চায়নি—এটি তার “পরিষ্কার কথা”। কেউ এতে খুশি বা অখুশি হতে পারেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রশ্নে তিনি কোনো আপস করবেন না এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ও ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের অভিজ্ঞতাকে ধারণ করেই সামনে এগোতে চান।

বক্তব্যের শেষদিকে তিনি বলেন, গত ১৫ বছর তিনি “ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে” ভোটাধিকারের জন্য লড়াই করেছেন, বহুবার কারাবরণ করেছেন এবং দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অসংখ্য “মিথ্যা মামলা” হয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোট দেওয়ার দিনকে জাতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ধানের শীষে ভোট দেবেন কি না—এ সিদ্ধান্ত ভোটারদের।