ঝিনাইদহ-৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর দুই নির্বাচনী অফিসে হামলা-ভাঙচুর

0
43
ঝিনাইদহ-৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর দুই নির্বাচনী অফিসে হামলা-ভাঙচুর

ঝিনাইদহ-৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী কাপ-পিরিচ প্রতীকের সাইফুল ইসলাম ফিরোজের দুটি নির্বাচনী অফিসে হামলা চালিয়ে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় একটি অবিস্ফোরিত ককটেল সদৃশ বস্তু উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ঘটনার পর কালীগঞ্জ শহরের কয়েকটি এলাকায় উত্তেজনা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

বৃহস্পতিবার (৫ জানুয়ারি) রাত ৮টার দিকে কালীগঞ্জ শহরের নিশ্চিন্তপুর ও পৌরসভার হেলাই গ্রামের দুটি নির্বাচনী অফিসে হামলার ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয়রা জানান। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাত ৮টার দিকে চারটি মোটরসাইকেলে করে আটজনের একটি দল নিশ্চিন্তপুর এলাকার নির্বাচনী অফিসে গিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীদের হাতে ধারালো অস্ত্র ছিল বলে দাবি করেন স্থানীয়রা। এ সময় অফিসের টেবিল-চেয়ারসহ তিনটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। পরে অফিসের ভেতরে একটি ককটেল নিক্ষেপ করা হলেও সেটি বিস্ফোরিত হয়নি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ককটেল সদৃশ বস্তুটি উদ্ধার করে।

একই সময়ে হেলাই গ্রামেও সাইফুল ইসলাম ফিরোজের আরেকটি নির্বাচনী অফিসে হামলার ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের অভিযোগ, আটজনের একটি দল অফিসে থাকা চেয়ার ভাঙচুর করে মোটরসাইকেলে করে দ্রুত পালিয়ে যায়। এ সময় কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা হামলাকারীদের মধ্যে দুজনকে চিনতে পেরেছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।

হেলাই গ্রামের স্থানীয় যুবক নুর ইসলাম বলেন, রাতে তিনি আরও দুজনের সঙ্গে নির্বাচনী অফিসে বসা ছিলেন। হঠাৎ চারটি মোটরসাইকেলে আসা একটি দল ভাঙচুর চালায়। তার দাবি, হামলাকারীদের মধ্যে ফয়লা গ্রামের শাওন ও মুন্নাকে তিনি শনাক্ত করেছেন।

ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজ বলেন, তিনি ওই সময় ফুরসন্দি ও ঘোড়শাল ইউনিয়নে ছিলেন। পরে জানতে পারেন, নিশ্চিন্তপুর ও হেলাই গ্রামের দুটি অফিস ভাঙচুর করা হয়েছে এবং স্থানীয়রা কয়েকজনকে চিনেছেন। তিনি বলেন, প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ বিঘ্নিত হবে এবং তার সমর্থকেরা সর্বোচ্চ ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছেন।

এ বিষয়ে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী রাশেদ খানের বক্তব্য জানতে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে রাকিব হোসেন নামের এক ব্যক্তি ফোন রিসিভ করে নিজেকে পিএস পরিচয় দেন। তিনি বলেন, পরে ফোন দিলে কথা বলিয়ে দেওয়া সম্ভব হতে পারে, কারণ প্রার্থী ব্যস্ত আছেন।

কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জেল্লাল হোসেন জানান, দুটি অফিসে ওই সময় কেউ না থাকায় সেখানে ভাঙচুর চালানো হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তিনি বলেন, একটি অফিসের ভেতর থেকে কালো টেপ দিয়ে মোড়ানো একটি জর্দার কৌটা উদ্ধার করা হয়েছে, সেটি ককটেল কি না—পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। খবর পেয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।