কারাগার থেকে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিলেন সালমান-আনিসুল-পলকরা

0
28
কারাগার থেকে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিলেন সালমান-আনিসুল-পলকরা

দেশের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো কারাবন্দিরা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেয়েছেন। এই বিশেষ ব্যবস্থার আওতায় মঙ্গলবার ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে শুক্রবার ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নিবন্ধিত ৫ হাজার ৯৯০ জন বন্দির মধ্যে ৪ হাজার ৬৭ জন পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে তাদের ভোট দিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা চলমান রাষ্ট্রীয় সংস্কার বিষয়ক গণভোটেও অংশ নিচ্ছেন।

কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শনিবার ভোটগ্রহণের শেষ দিন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাকি ১ হাজার ৯২৩ জন নিবন্ধিত বন্দি ভোট দিতে না পারলে তাদের ভোটাধিকার বাতিল হয়ে যাবে।

এই ব্যতিক্রমধর্মী ভোট কার্যক্রমে কারাগারে থাকা একাধিক সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাসহ প্রায় অর্ধশত ভিআইপি বন্দি অংশ নিয়েছেন। কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে থাকা ৩৯ জন উচ্চপ্রোফাইল বন্দির মধ্যে রয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত সরকারের উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, সাবেক মন্ত্রী আনিসুল হক, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু ও জুনাইদ আহমেদ পলক। নিবন্ধিত ভিআইপি বন্দিদের মধ্যে ২২ জন রাজনৈতিক নেতা, ১১ জন সাবেক সচিব এবং পাঁচজন পুলিশ কর্মকর্তা রয়েছেন।

ভোটগ্রহণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ঢাকা বিভাগকে দুটি সাংগঠনিক অংশে ভাগ করা হয়েছে। ঢাকা বিভাগ–১-এর আওতায় নিবন্ধিত বন্দির সংখ্যা ১ হাজার ৪৭৬ জন এবং ঢাকা বিভাগ–২-এর আওতায় রয়েছেন ১ হাজার ১৮৩ জন।

সহকারী কারা মহাপরিদর্শক উন্নয়ন জান্নাত-উল-ফরহাদ জানান, প্রতিটি নিবন্ধিত বন্দিকে একটি প্যাকেটে তিনটি করে খাম দেওয়া হচ্ছে। এতে সংসদ নির্বাচনের ব্যালট পেপার এবং সংস্কার গণভোটের জন্য ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ লেখা পৃথক ব্যালট পেপার অন্তর্ভুক্ত থাকছে। বন্দিরা ভোট দেওয়ার পর খামগুলো আঠা দিয়ে বন্ধ করে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিচ্ছেন। পরে ডাক বিভাগের এক্সপ্রেস ব্যবস্থায় সেগুলো নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার সাধারণ ভোটের সঙ্গে এসব পোস্টাল ব্যালট যুক্ত করে চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করা হবে।

কারা অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, ৩ ফেব্রুয়ারি ১ হাজার ৫২১ জন, ৪ ফেব্রুয়ারি ৯৮৮ জন, ৫ ফেব্রুয়ারি ১ হাজার ১৩৮ জন এবং ৬ ফেব্রুয়ারি ৪২০ জন বন্দি ভোট দিয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের বিশেষ অ্যাপ ব্যবহার করে কারা কর্তৃপক্ষের সহায়তায় গত ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত তিন সপ্তাহ ধরে অনলাইনে এই নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

সে সময় দেশের ৭৫টি কারাগারে মোট ৮৬ হাজার বন্দি থাকলেও ভোটের জন্য নিবন্ধন করেন মাত্র ৫ হাজার ৯৯০ জন। এর মধ্যে ত্রুটিপূর্ণ হওয়ায় ৩৮০টি আবেদন বাতিল করা হয় এবং বাকিরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিবন্ধন করতে পারেননি। সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, কারাবন্দিদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার এই উদ্যোগ দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবর্তনের দৃষ্টান্ত।