নির্বাচন ও রমজান সামনে রেখে চট্টগ্রাম বন্দরের ধর্মঘট স্থগিত

0
18
নির্বাচন ও রমজান সামনে রেখে চট্টগ্রাম বন্দরের ধর্মঘট স্থগিত

নির্বাচন ও পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দরের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট স্থগিত ঘোষণা করেছে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ। ধর্মঘট স্থগিতের সিদ্ধান্তের পর সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে বন্দরের নিয়মিত অপারেশনাল কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

ধর্মঘট চলাকালে চট্টগ্রাম বন্দরের তিনটি প্রধান টার্মিনাল—জেনারেল কার্গো বার্থ (জিসিবি), চিটাগং কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) এবং নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ ছিল। সোমবার সকাল থেকে এসব টার্মিনালে জাহাজ থেকে কনটেইনার ও পণ্য ওঠানো-নামানো আবার শুরু হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সকাল আটটা থেকে জেটি, ইয়ার্ড, টার্মিনাল ও প্রশাসনিক ভবনের পাশাপাশি বহির্নোঙরেও (আউটার লাইটারেজ) কার্যক্রম চালু হয়েছে। রোববার কর্মবিরতির কারণে এসব কার্যক্রম বন্ধ ছিল।

রোববার রাতে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীরা। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিডার চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীর ঘোষণার আলোকে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালের (এনসিটি) কোনো চুক্তি হবে না—এমন আশ্বাস পাওয়ায় নির্বাচন ও রমজানের পণ্য খালাসের স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে আন্দোলনকারী কর্মচারীদের বিরুদ্ধে করা মামলা, গ্রেপ্তার, শাস্তিমূলক বদলি, বাসা বরাদ্দ বাতিল এবং ১৬ কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্তের বিষয়গুলোর সুরাহা না হলে পুনরায় কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়।

চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক হুমায়ুন কবির বলেন, এনসিটিকে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া এই সরকারের আমলে এগিয়ে নেওয়া হবে না—এমন ঘোষণা আন্দোলনকারীরা তাদের প্রাথমিক বিজয় হিসেবে দেখছেন। সব দিক বিবেচনা করেই কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে এবং সকাল ৮টা থেকে শ্রমিক-কর্মচারীরা কাজে যোগ দিয়েছেন।

এর আগে এনসিটির ইজারা প্রক্রিয়া বন্ধের দাবিতে গত শনিবার থেকে লাগাতার কর্মবিরতিতে অচল হয়ে পড়ে চট্টগ্রাম বন্দর। এতে দেশের প্রধান এই সমুদ্রবন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। ধর্মঘট প্রত্যাহারের খবরে বন্দর ব্যবহারকারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে এবং সকাল থেকে বন্দরে আবার কর্মচাঞ্চল্য দেখা গেছে। তবে টানা সাত দিন কাজ বন্ধ থাকার ফলে সৃষ্ট ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা সহজ হবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।