নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার: স্থলবন্দর ও ইমিগ্রেশন বন্ধের সিদ্ধান্ত

0
31
নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার: স্থলবন্দর ও ইমিগ্রেশন বন্ধের সিদ্ধান্ত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্ছিদ্র করতে সব স্থলবন্দরের ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট ও সীমান্ত পারাপার বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুযায়ী, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের দিন ভোর ৬টা থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি ভোর ৬টা পর্যন্ত দেশের সব স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানি ও জনসাধারণের যাতায়াত সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। মূলত নাশকতার ঝুঁকি কমানো, অস্ত্র ও বিস্ফোরকের অনুপ্রবেশ ঠেকানো এবং চিহ্নিত অপরাধীদের দেশত্যাগ রোধ করতেই এই ‘জিরো মুভমেন্ট’ নীতি কার্যকর করা হচ্ছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের মতো সংবেদনশীল সময়ে সীমান্ত বন্ধ রাখলে বহিঃশত্রুর হস্তক্ষেপ বা অভ্যন্তরীণ দুর্বৃত্তদের পালানোর পথ বন্ধ হয়ে যায়, যা সামগ্রিক ঝুঁকি প্রায় ৮০ শতাংশ কমিয়ে দেয়। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর প্রতিবেদনের ভিত্তিতে নেওয়া এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বিজিবি, ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর এবং পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মিয়ানমার সীমান্তের অস্থিরতা এবং রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের আশঙ্কার কারণে ওই এলাকায় নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে।

প্রশাসনিক ও আইনি বিশেষজ্ঞরা সরকারের এই পদক্ষেপকে সময়োপযোগী এবং আইনসম্মত বলে অভিহিত করেছেন। তারা মনে করেন, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বলয় সুসংহত রাখা জরুরি। সীমান্ত বন্ধ রাখার ফলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সীমান্তে অতিরিক্ত জনবল ব্যয়ের বদলে নির্বাচনী এলাকার নিরাপত্তায় বেশি মনোযোগ দিতে পারবে। এই নির্দেশনার পাশাপাশি দেশজুড়ে মোটরসাইকেল চলাচলের ওপর ৭২ ঘণ্টার নিষেধাজ্ঞা এবং ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ও বডি ওর্ন ক্যামেরার মতো প্রযুক্তিগত নজরদারিও নিশ্চিত করা হয়েছে।