চব্বিশের জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানের সময় কারফিউ জারি ও গণহত্যার উসকানি দেওয়ার অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এবং সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বিরুদ্ধে আজ আনুষ্ঠানিক বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে সূচনা বক্তব্য (ওপেনিং স্টেটমেন্ট) উপস্থাপনের পাশাপাশি মামলার প্রথম সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণের দিন ধার্য রয়েছে। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
গত ১২ জানুয়ারি এই দুই প্রভাবশালী নেতার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। ওই দিন অভিযোগ গঠনের সময় আসামিরা কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেন।
প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, গত বছরের ১৯ জুলাই দুই আসামির মধ্যে একটি টেলিফোন সংলাপ হয়, যেখানে তারা কারফিউ চলাকালে আন্দোলনকারীদের কঠোরভাবে দমনের নির্দেশ দেন। তাদের এই পরিকল্পনা ও প্ররোচনাতেই রাজধানী ঢাকাসহ মিরপুর এলাকায় পৃথক পৃথক ঘটনায় বহু ছাত্র-জনতা নিহত হন বলে অভিযোগ আনা হয়েছে।
এর আগে গত ৪ ডিসেম্বর প্রসিকিউশন এই মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে এবং আদালত তা আমলে নেন। উল্লেখ্য যে, গত ১৩ আগস্ট রাজধানীর সদরঘাট এলাকা দিয়ে নৌপথে পালানোর সময় এই দুই নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। বর্তমানে তারা বিভিন্ন মামলায় কারাগারে রয়েছেন। আজকের এই সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ঘটনায় দায়ের হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারিক প্রক্রিয়ায় এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ শুরু হলো।