ডাবল সুপার ওভারের রোমাঞ্চে আফগানিস্তানকে হারিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার ঐতিহাসিক জয়

0
18
ডাবল সুপার ওভারের রোমাঞ্চে আফগানিস্তানকে হারিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার ঐতিহাসিক জয়

ক্রিকেটের নাটকীয়তাও কখনো কখনো কল্পকাহিনিকে হার মানায়। আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকা ও আফগানিস্তানের ম্যাচটি ঠিক তেমনই এক অবিশ্বাস্য গল্প হয়ে থাকল। নির্ধারিত ২০ ওভারে ফল না হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় সুপার ওভারে, সেখানেও সমতা আসে। শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয় সুপার ওভারের শেষ বল নির্ধারণ করে দেয় জয়ী দলকে—৪ রানের রুদ্ধশ্বাস জয়ে বিশ্বের প্রথম ডাবল সুপার ওভার ম্যাচ নিজেদের করে নেয় দক্ষিণ আফ্রিকা।

প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরুতে ধাক্কা খেলেও দ্রুত ম্যাচে ফেরে প্রোটিয়ারা। রায়ান রিকেলটন ও কুইন্টন ডি ককের ৬১ বলে ১১৪ রানের বিধ্বংসী জুটিতে বড় সংগ্রহের ভিত পায় দলটি। ডি কক ৫৯ ও রিকেলটন ৬১ রান করেন। শেষদিকে ডেভিড মিলার ও মার্কো জানসেনের ঝড়ো ক্যামিওতে দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংস থামে ২০ ওভারে ১৮৭ রানে।

জবাবে আফগানিস্তানও দারুণ লড়াই করে। রহমানউল্লাহ গুরবাজের ৮২ রানের ঝলমলে ইনিংসে ম্যাচ শেষ পর্যন্ত টেনে নিয়ে যায় তারা। শেষ ওভারে দরকার ছিল ১৩ রান, হাতে এক উইকেট। কাগিসো রাবাদার ওভারে নো বল ও ওয়াইডে নাটকীয়তা বাড়লেও শেষ পর্যন্ত রানআউটে ১৮৭ রানেই অলআউট হয়ে যায় আফগানিস্তান—ফলে ম্যাচ টাই হয়।

প্রথম সুপার ওভারে আজমতউল্লাহ ওমরজাইয়ের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে আফগানিস্তান তোলে ১৭ রান। জবাবে দক্ষিণ আফ্রিকার দরকার পড়ে শেষ তিন বলে ১১ রান। ট্রিস্টান স্টাবস চার ও ছক্কায় সেই অসম্ভব সমীকরণ মিলিয়ে সমতা ফেরান। এর ফলে বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথমবার ম্যাচ গড়ায় দ্বিতীয় সুপার ওভারে।

দ্বিতীয় সুপার ওভারে মিলার ও স্টাবস তিনটি ছক্কায় ২৩ রানের বড় লক্ষ্য দাঁড় করান। আফগানিস্তান শুরুতে ধাক্কা খেলেও গুরবাজ আবার লড়াইয়ে ফেরান দলকে। শেষ চার বলে যখন ২৪ রান দরকার, টানা তিন ছক্কায় সমীকরণ নেমে আসে শেষ বলে ৬-এ; একটি ওয়াইডে উত্তেজনা আরও বাড়ে। কিন্তু শেষ বলে বড় শট নিতে গিয়ে ক্যাচ আউট হন গুরবাজ—আর তাতেই শেষ হয় রোমাঞ্চকর লড়াই, ৪ রানে ম্যাচ জিতে নেয় দক্ষিণ আফ্রিকা।

এই ম্যাচটি শুধু জয়-পরাজয়ের হিসাব নয়—নাটকীয়তা, উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তায় ভরা টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে একটি স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকল।