দল যদি আমাকে ফেরাতে চায়, আগে বহিষ্কৃত নেতাকর্মীদের ফেরাতে হবে: রুমিন ফারহানা

0
22
দল যদি আমাকে ফেরাতে চায়, আগে বহিষ্কৃত নেতাকর্মীদের ফেরাতে হবে: রুমিন ফারহানা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ-বিজয়নগরের দুই ইউনিয়ন) আসনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেছেন, বিএনপি থেকে বেরিয়ে এসে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করা তার জন্য সহজ ছিল না; তার চেয়েও বেশি কঠিন সময় পার করেছেন দলের নেতাকর্মীরা। তিনি বলেন, দল যদি তাকে ফেরাতে চায়, তাহলে আগে বহিষ্কার হওয়া নেতাকর্মীদের দলে ফেরাতে হবে।

শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সরাইল উপজেলার শাহবাজপুরে নিজ বাসভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে রুমিন ফারহানা এসব কথা বলেন। তিনি জানান, গত ১৭ বছর ধরে দলের নেতাকর্মীরা ত্যাগ ও পরিশ্রম করেছেন—অনেকে ঘরে থাকতে পারেননি, অনেকে বহিষ্কারের মুখে পড়েছেন। রুমিন ফারহানা বলেন, তিনি নির্বাচনে জয়ী না হলে হয়তো ঢাকায় ফিরে পেশায় যোগ দিতেন, কিন্তু তার কর্মীরা কোথায় যেতেন—সে প্রশ্নও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, নেতাকর্মীদের ভালোবাসার ঋণ কীভাবে শোধ করবেন, সেটি তার কাছে বড় বিষয়।

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দলীয় প্রার্থী না হওয়ায় নিজের অবস্থান টিকিয়ে রাখতে হলে কাজের বিকল্প নেই। ভবিষ্যতে আবার নির্বাচনে দাঁড়াতে হলে কাজই হবে তার “একমাত্র ভরসা”—এমন বক্তব্যও দেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে রুমিন ফারহানা ভোটগ্রহণে অনিয়মের অভিযোগও করেন। তার দাবি, দুপুরের পর কয়েকটি কেন্দ্রে ভোট কারচুপির চেষ্টা হয়েছে এবং ফলাফল বিলম্বিত করার চেষ্টা করা হয়েছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে রুমিন ফারহানা পেয়েছেন ১ লাখ ১৮ হাজার ৫৪৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির জোটের প্রার্থী, জমিয়তে ওলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সহ-সভাপতি জুনায়েদ আল হাবিব ‘খেজুর গাছ’ প্রতীকে পেয়েছেন ৮০ হাজার ৪৩৪ ভোট।

উল্লেখ্য, রুমিন ফারহানা বিএনপির নির্বাহী কমিটির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন এবং একাদশ জাতীয় সংসদে বিএনপি থেকে সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ত্রয়োদশ নির্বাচনে তিনি দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন, তবে আসনটি জোটের শরিক জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামকে ছেড়ে দেয় বিএনপি। পরে দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় তাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়। কেন্দ্রীয় নির্দেশ অমান্য করে তার পক্ষে প্রকাশ্যে সক্রিয় থাকায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন সংগঠনিক ইউনিটে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের একাধিক নেতাকর্মীকেও বহিষ্কার করা হয়েছিল।