ফরিদপুরের সালথা-বোয়ালমারী সীমান্তে সংঘর্ষ, বাড়িঘর ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ; আহত অন্তত ২০

0
33
ফরিদপুরের সালথা-বোয়ালমারী সীমান্তে সংঘর্ষ, বাড়িঘর ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ; আহত অন্তত ২০

ফরিদপুর জেলার সালথা উপজেলা ও বোয়ালমারী উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে এ সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হন। এ সময় কয়েকটি বাড়িঘর ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগও পাওয়া গেছে।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, সালথা উপজেলার খারদিয়া গ্রামের টুলু মিয়া ও জিহাদ মিয়ার সমর্থক এবং বোয়ালমারী উপজেলার পরমেশ্বরদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মান্নান মাতুব্বরের সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। শনিবার সকাল ১০টার দিকে বিরোধ নতুন করে সংঘর্ষে রূপ নেয়। উভয়পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও দেশীয় অস্ত্রের ব্যবহার হয়।

সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে পরিস্থিতি শান্ত হয়। ফরিদপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (সালথা-নগরকান্দা সার্কেল) মাহমুদুল হাসান জানান, সংঘর্ষের পর দ্রুত অভিযান চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। এ সময় দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার এবং কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

স্থানীয়দের ভাষ্য, সংঘর্ষ চলাকালে বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানা গেছে, যদিও গুরুতর আহতের সংখ্যা প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।

উভয় পক্ষের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি, কারণ সংশ্লিষ্টদের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের দাবি, আধিপত্য বিস্তার ও ভোট-সংক্রান্ত বিরোধ দীর্ঘদিন ধরে চলছিল এবং ঘটনার আগে এলাকায় উত্তেজনা ছিল।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত চলছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের সংঘর্ষ প্রতিরোধে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নজরদারি জোরদার করেছে। দায়ীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, এ ধরনের রাজনৈতিক সংঘর্ষ পুনরায় ঘটলে সাধারণ মানুষের জীবনযাপন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। প্রশাসন শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।