যেভাবে নির্বাচিত হবেন সংরক্ষিত নারী আসনের এমপিরা

0
43
যেভাবে নির্বাচিত হবেন সংরক্ষিত নারী আসনের এমপিরা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৯টি আসনের মধ্যে ২৯৭টি আসনের বিজয়ীর নাম গেজেট আকারে প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী চট্টগ্রামের দুটি আসনের ফল পরে দেওয়া হবে। এ ছাড়া জামায়াত প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে শেরপুর-৩ আসনে ভোট স্থগিত রয়েছে।

এই নির্বাচনে বিএনপি জোট ২১২টি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জোট ৭৭টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ১টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৭টি আসনে নির্বাচিত হয়েছেন। বিজয়ী সংসদ সদস্যরা আগামী সোমবার বা মঙ্গলবার শপথ গ্রহণ করবেন। নির্বাচনের পরবর্তী সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নতুন সংসদের আনুষ্ঠিক যাত্রা শুরু হবে। অন্তর্বর্তী সরকারও যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে দায়িত্ব হস্তান্তরের বিষয়ে জোর দিয়েছে।

এদিকে, সংবিধান অনুযায়ী, জাতীয় সংসদে ৫০টি নারী আসন সংরক্ষিত। সাধারণ নির্বাচনের ফল গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে এসব আসনের নির্বাচনের কাজ সম্পন্ন করতে হবে। অর্থাৎ চলতি বছরের মে মাসের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে নির্বাচন কমিশন (ইসি) এসব আসনের ভোট আয়োজন করবে। সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে ভোট দেবেন ত্রয়োদশ সংসদের নবনির্বাচিত সদস্যরা। ইতিমধ্যে ইসি এই নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন প্রক্রিয়া

সংরক্ষিত নারী আসনে আসন সংখ্যা অনুযায়ী রাজনৈতিক দল বা জোট তাদের প্রাপ্ত আসনের জন্য একক প্রার্থী মনোনয়ন দেয়। একক প্রার্থী থাকলে ভোটগ্রহণের প্রয়োজন হয় না। তবে প্রার্থী বেশি হলে ভোট নেওয়া হয় এবং সর্বোচ্চ ভোটপ্রাপ্ত প্রার্থীরাই নির্বাচিত হন।

আইন অনুযায়ী, শপথ গ্রহণ করা সংসদ সদস্যদের তথ্য তিন কার্যদিবসের মধ্যে সংসদ সচিবালয় থেকে ইসিতে পাঠানো হয়। সাধারণ নির্বাচনের ফল গেজেট প্রকাশের ২১ কার্যদিবসের মধ্যে দল বা জোট তাদের প্রার্থী তালিকা নির্বাচন কমিশনে জমা দেয়। এরপর ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে ইসি সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের জন্য শপথ গ্রহণ করা সদস্যদের দলভিত্তিক তালিকা প্রস্তুত করে।

প্রস্তুতকৃত তালিকা নির্বাচন কমিশনের প্রকাশ্য স্থানে টাঙানো হয় এবং সংসদ সচিবালয়ে তার প্রত্যায়িত কপি পাঠানো হয়। নির্বাচনের আগে এই তালিকায় কোনো পরিবর্তন সম্ভব নয়, তবে কোনো করণিক ভুল থাকলে সংশোধন করা যেতে পারে।
আসন বণ্টন পদ্ধতি

সংরক্ষিত নারী আসনের কোনো নির্দিষ্ট নির্বাচনি এলাকা নেই। আসন বণ্টন মূলত দল বা জোটের সাধারণ আসনে বিজয়ী সদস্য সংখ্যা অনুযায়ী করা হয়।

  • ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনকে দেশের ৩০০টি সাধারণ আসনে ভাগ করা হয়।

  • প্রাপ্ত ভাগফলকে সংশ্লিষ্ট দলের শপথ গ্রহণ করা সদস্য সংখ্যা দিয়ে গুণ করা হয়।

  • ভগ্নাংশ থাকলে শূন্য দশমিক ৫ বা তার বেশি থাকলে ১টি আসন দেওয়া হয়।

  • মোট আসনের চেয়ে বেশি আসন হলে লটারির মাধ্যমে সমন্বয় করা হয়।

এবারের আনুপাতিক বণ্টন অনুযায়ী, বিএনপি জোট ৩৫টি, জামায়াত জোট পাবে ১৩টি, স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জোটভুক্ত হয়ে ১টি সংরক্ষিত আসন পেতে পারেন। তবে স্বতন্ত্ররা কোথাও যোগ দিলে হিসাব পাল্টাতে পারে।

ভোটার ও নির্বাচন-সংক্রান্ত বিস্তারিত

শপথ নেওয়া সংসদ সদস্যরাই সংরক্ষিত নারী আসনের ভোটার হবেন। তারা কেবল নিজেদের দলের প্রাপ্ত আসনের জন্য ভোট দিতে পারবেন। একক প্রার্থী থাকলে ভোটের প্রয়োজন হয় না, কিন্তু প্রার্থী বেশি হলে সর্বোচ্চ ভোটপ্রাপ্ত প্রার্থীরাই নির্বাচিত হবেন।
জাতীয় সংসদ (সংরক্ষিত মহিলা আসন) আইন-২০০৪ অনুযায়ী, সংরক্ষিত আসনে তপশিল ঘোষণা করতে হয়। ইসি তপশিল ঘোষণার পর রিটার্নিং কর্মকর্তা, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ করবেন। ভোটগ্রহণের জন্য সংসদ ভবনে কেন্দ্র স্থাপন করা হতে পারে।

যদি কোনো দল বা জোট প্রাপ্য নারী আসনের জন্য প্রার্থী না দেয় বা কম প্রার্থী দেয়, তাহলে ওই আসনের জন্য সরাসরি ভোট নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে দলভিত্তিক কোনো বণ্টন হবে না এবং সব দল বা জোট প্রার্থী দিতে পারবে।