কিউবার রাজধানী হাভানায় একটি তেল শোধনাগারে আগুন লাগার পর অল্প সময়ের মধ্যেই তা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। তীব্র জ্বালানি সঙ্কটের মধ্যে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে বলে খবরে বলা হয়েছে।
শুক্রবার হাভানার নিকো লোপেজ শোধনাগার এলাকা থেকে গাঢ় কালো ধোঁয়া বের হতে দেখা গেছে বলে বিবিসির বরাতে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। কিউবার জ্বালানিমন্ত্রী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি এবং অগ্নিকাণ্ডের কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যেখানে আগুনের ঘটনা ঘটে তার কাছাকাছি হাভানা বে-তে দুটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার নোঙর করা অবস্থায় ছিল।
জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে কিউবায় সংকটের প্রেক্ষাপটও তুলে ধরা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের চাপ ও নিষেধাজ্ঞার প্রভাবে ভেনেজুয়েলা থেকে কিউবায় তেল পাঠানো কমে যাওয়ায় কিংবা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশটিতে জ্বালানি সঙ্কট তীব্র হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, আগে ভেনেজুয়েলা প্রতিদিন গড়ে ৩৫ হাজার ব্যারেল তেল কিউবায় পাঠাত—পরবর্তীতে তা বাধাগ্রস্ত হয়। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার তেলবাহী ট্যাঙ্কার জব্দ করছে এবং যারা কিউবায় তেল বিক্রি করবে তাদের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিয়েছে বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
জ্বালানি সঙ্কটের ফলে কিউবায় লোডশেডিং গুরুতর আকার নিয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়, যার প্রভাব হাসপাতালের জরুরি সেবা, রোগীদের ডায়ালাইসিস, এবং পানির পাম্পিং স্টেশনসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে পড়ছে। উড়োজাহাজের জ্বালানিতেও ঘাটতি দেখা দেওয়ায় কিছু এয়ারলাইনস ফ্লাইট বন্ধ করেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়। যুক্তরাজ্যসহ কয়েকটি দেশ নাগরিকদের ‘প্রয়োজন ছাড়া’ কিউবা ভ্রমণ না করার পরামর্শ দিয়েছে বলেও উল্লেখ রয়েছে।
এ অবস্থায় তেল নিষেধাজ্ঞা ও সরবরাহ ঘাটতি কিউবার মানুষের দৈনন্দিন জীবন এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যপ্রাপ্তি আরও কঠিন করে তুলছে বলে প্রতিবেদনে মন্তব্য করা হয়। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার ৮০০ টন ত্রাণ নিয়ে মেক্সিকোর দুটি জাহাজ হাভানা বে-তে পৌঁছেছে বলেও খবরে বলা হয়েছে।
প্রতিবেদনে জাতিসংঘের অবস্থানও তুলে ধরা হয়। কিউবায় তেল পৌঁছাতে বাধা দেওয়া সংক্রান্ত ওয়াশিংটনের নিষেধাজ্ঞাকে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা “একতরফা অর্থনৈতিক জবরদস্তির চরম রূপ” হিসেবে দেখছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার টুর্ক কিউবার ক্রমবর্ধমান সঙ্কট নিয়ে “ব্যাপক উদ্বিগ্ন” বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়।
সবশেষে উল্লেখ করা হয়, ১৯৬০ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্র কিউবার ওপর অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা জারি করে রেখেছে এবং সাম্প্রতিক সময়ে চাপ আরও বেড়েছে। তবে এসবের মধ্যেও কিউবার নেতারা বলছেন, তারা লড়ে যাবেন।