আজ পয়লা ফাল্গুনে বসন্ত বরণ, প্রেম ও প্রতিবাদের রঙে রাঙা এক দিন

0
23
আজ পয়লা ফাল্গুনে বসন্ত বরণ, প্রেম ও প্রতিবাদের রঙে রাঙা এক দিন

‘বাতাসে বহিছে প্রেম, নয়নে লাগিল নেশা কারা যে ডাকিল পিছে! বসন্ত এসে গেছে…’—এই সুরেই আসে পয়লা ফাল্গুন। বাংলা সনের একাদশ মাসের প্রথম দিন, ঋতুরাজ বসন্তের সূচনা। ১৪ ফেব্রুয়ারি দিনটি বাংলাদেশে যেমন পয়লা ফাল্গুন হিসেবে উদযাপিত হয়, তেমনি বিশ্বজুড়ে এটি Valentine’s Day হিসেবেও পরিচিত।

বাংলাদেশে বসন্ত বরণ উৎসবের প্রাতিষ্ঠানিক সূচনা হয় ১৯৯১ সালে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ–এর উদ্যোগে। তবে এরও আগে, ১৯৫০ ও ১৯৬০–এর দশকে বাঙালিরা সাংস্কৃতিক চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে পয়লা ফাল্গুন উদযাপন শুরু করেন। পাকিস্তানি সাংস্কৃতিক প্রভাব থেকে আলাদা পরিচয় গড়ে তুলতে রবীন্দ্রসঙ্গীত শোনা ও বাঙালি ঐতিহ্য লালনের মধ্য দিয়ে দিনটি গুরুত্ব পায়।

বসন্ত মানেই নতুনের ডাক। শীতের রুক্ষতা কাটিয়ে প্রকৃতি ফিরে পায় তার সজীব রূপ। গাছে গাছে নতুন পাতা, ফুলের মুকুল, পাখির গান আর ফুলের মিষ্টি ঘ্রাণে ভরে ওঠে চারদিক। প্রজাপতির রঙিন ডানায় ভেসে আসে ঋতুরাজের আগমনী বার্তা। শুধু প্রকৃতিতেই নয়, মানুষের মনেও বসন্ত জাগায় ভালোবাসা, উচ্ছ্বাস আর নতুন স্বপ্নের সঞ্চার। তাই এ দিনটিতে মানুষ নিজেকে সাজায় হলুদ, বাসন্তী আর লালের আবেশে।

‘ফাল্গুন’ নামটির উৎস ফাল্গুনী নক্ষত্র। প্রাচীন কালে চন্দ্রবর্ষ ও সৌরবর্ষ—উভয় পঞ্জিকা অনুসরণ করা হতো, আর ফাল্গুন ছিল পূর্ণ চন্দ্রের মাস। সময়ের পরিক্রমায় এটি বাঙালির সাংস্কৃতিক চেতনার অংশ হয়ে ওঠে।

বসন্ত নিয়ে রচিত হয়েছে অসংখ্য গান ও কবিতা। কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায় লিখেছেন, ‘ফুল ফুটুক, আর না-ই ফুটুক আজ বসন্ত’। বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিম–এর কণ্ঠে ‘বসন্ত বাতাসে সই গো…’ গানটি আজও সমান জনপ্রিয়। আর বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বসন্তকে ঘিরে সৃষ্টি করেছেন অসংখ্য কালজয়ী গান ও কবিতা, যা বাঙালির হৃদয়ে আজও অনুরণিত।

তবে বসন্ত কেবল রঙ আর ভালোবাসার উৎসব নয়, এ মাসের রাজনৈতিক গুরুত্বও গভীর। ফাগুনের লাল শিমুল আর কৃষ্ণচূড়া মনে করিয়ে দেয় ১৯৫২–এর ভাষা আন্দোলনের শহীদদের আত্মত্যাগ। রফিক, সালাম, বরকতদের রক্তে রাঙা এ মাসই বাঙালির জাতীয় চেতনার অন্যতম ভিত্তি। ভাষার অধিকারের সেই সংগ্রামই পরবর্তীতে স্বাধীনতার পথ রচনা করে।

তাই পয়লা ফাল্গুন শুধু ঋতুর পালাবদল নয়—এ দিন প্রেম, সংস্কৃতি ও প্রতিবাদের এক অনন্য সমাহার।