ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় এক গৃহবধূকে অস্ত্রের মুখে সন্তানদের জিম্মি করে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে। ঘটনাটি মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে ঘটে। অভিযোগে বলা হয়েছে, একই সময় ওই নারীর ঘরে থাকা চার লাখ টাকা ও স্বর্ণালংকারও লুট করা হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগীর স্বামী কর্মসূত্রে চট্টগ্রামে অবস্থান করছিলেন। তিনি জমি কেনার জন্য ব্যাংক থেকে চার লাখ টাকা তুলে বাড়িতে আনেন। পরদিন সকালে জমির মালিককে টাকাটি দেওয়ার কথা ছিল। মঙ্গলবার গভীর রাতে, সন্তানদের সঙ্গে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় ঘরের চিলেকোঠার ফটক ভুলবশত খোলা ছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, নুর করিম ও তার সহযোগীরা ওই রাতে ঘরে ঢুকে নারীর হাত ও মুখ বেঁধে রাখে।
আলমারি ভেঙে নগদ চার লাখ টাকা ও দুই ভরি স্বর্ণালংকার লুট করা হয়। অভিযুক্তরা শিশুদের অস্ত্রের মুখে পাশের কক্ষে আটকে রেখে তিনজন পর্যায়ক্রমে নারীকে ধর্ষণ করে। শিশুদের চিৎকার-চেঁচামেচার একপর্যায়ে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়।
প্রধান অভিযুক্ত নুর করিম ধর্ষণের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, ওই রাতে তাদের দোকানেও চুরি হয়েছে এবং পুরনো বিরোধের কারণে এমন অভিযোগ করা হতে পারে। তার বক্তব্য, ধর্ষণের কোনো ঘটনা তার জানা নেই।
চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) মাখলুকুর রহমান জানান, ধর্ষণের শিকার নারী হাসপাতালে এসেছেন এবং তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
চরফ্যাশন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর বাদশা বলেন, ধর্ষণের অভিযোগে নারী তিনজনকে আসামি করে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। ঘটনা তদন্তাধীন রয়েছে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, চরফ্যাশন এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার পাশাপাশি সমাজে সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজন রয়েছে। এই ধরনের ঘটনা সামাজিক ও পারিবারিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এ ঘটনায় পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের চেষ্টা করছে। তদন্তে অভিযোগ ও প্রমাণ যাচাইয়ের মাধ্যমে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা ও সহায়তার বিষয়টিও স্থানীয় প্রশাসনের নজরে রাখা হয়েছে।
সামাজিক সংগঠনগুলোও ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তারা বলেছে, এমন সহিংসতা সমাজে নারীর নিরাপত্তা এবং শিশুদের নিরাপত্তার জন্য এক গভীর হুমকি। স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
ভুক্তভোগী পরিবার আশা করছে, দ্রুত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হবে। তারা আইনের মাধ্যমে দোষীদের শাস্তি ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চায়।