মাদাগাস্কারে ঘূর্ণিঝড় ‘গেজানির’ আঘাতে অন্তত ৫৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। চলতি বছরে ভারত মহাসাগরীয় দ্বীপদেশটিতে আঘাত হানা এটি দ্বিতীয় শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়।
দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দফতর সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) এ তথ্য জানিয়েছে। খবর রয়টার্সের
দেশটির জাতীয় ঝুঁকি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ব্যুরো (বিএনজিআরসি) জানায়, গেজানির কারণে ১৬ হাজার ৪২৮ জন মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ১৫ জন। আহত হয়েছেন ৮০৪ জন। আর মোট ৪ লাখ ২৩ হাজার ৯৮৬ জন এই দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন।
জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গেজানি আঘাত হানার মাত্র ১০ দিন আগে ট্রপিক্যাল সাইক্লোন ফাইটিয়া মাদাগাস্কারে আঘাত করে। ওই ঝড়ে ১৪ জনের মৃত্যু হয় এবং ৩১ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হন।
ঘূর্ণিঝড় গেজানি সর্বোচ্চ শক্তিতে থাকাকালে ঘণ্টায় প্রায় ১৮৫ কিলোমিটার বেগে স্থায়ী দমকা হাওয়া বইছিল। দমকার গতি প্রায় ২৭০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছায়। এত শক্তিশালী বাতাসে ঘরের টিনের ছাউনি উড়ে যায় এবং বড় বড় গাছ উপড়ে পড়ে।
মাদাগাস্কার অতিক্রম করে গেজানি মোজাম্বিক চ্যানেল পেরিয়ে পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়। এ সময় দক্ষিণ মোজাম্বিক উপকূলে ঘণ্টায় প্রবল বাতাসের সঙ্গে সর্বোচ্চ ১০ মিটার উচ্চতার ঢেউ আছড়ে পড়ে বলে দেশটির আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে।
পরবর্তীতে আবহাওয়াব্যবস্থা দিক পরিবর্তন করে আবার পূর্ব দিকে মোড় নেয়। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এটি আবার মাদাগাস্কারের দিকে ঘুরে আসছে এবং সোমবার দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে দ্বিতীয়বারের মতো আঘাত হানতে পারে।
এ পরিস্থিতিতে দক্ষিণ-পশ্চিম মাদাগাস্কারের আম্পানিহি জেলাকে লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, সোমবার সন্ধ্যায় ঘূর্ণিঝড়টি উপকূল থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূর দিয়ে অতিক্রম করতে পারে। এ সময় ঘণ্টায় প্রায় ৬৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস বইতে পারে, তবে ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা নেই।