শপথ অনুষ্ঠানে থাকছেন দেশি–বিদেশি ১২০০ অতিথি

0
16
শপথ অনুষ্ঠানে থাকছেন দেশি–বিদেশি ১২০০ অতিথি

দীর্ঘ দুই যুগ পর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার মসনদে ফিরে আসতে যাওয়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল চারটায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এই ঐতিহাসিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করাবেন।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, অনুষ্ঠানে দেশি ও বিদেশি প্রায় ১২০০ জন উচ্চপদস্থ ব্যক্তি, কূটনীতিক এবং বিশিষ্ট অতিথি অংশ নেবেন। বিদেশি অতিথিদের মধ্যে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে, ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এবং পাকিস্তানের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন মন্ত্রী আহসান ইকবাল সরাসরি অংশগ্রহণ করবেন। এছাড়া নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দা শর্মা, মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল্লাহ খলিল এবং শ্রীলঙ্কার স্বাস্থ্যমন্ত্রী নালিন্দা জয়াতিসাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন। কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, শেষ মুহূর্তে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু নিজেও ঢাকায় আসতে পারেন। যুক্তরাজ্যের পক্ষ থেকে ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি সীমা মালহোত্রাও অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন।

গত বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসনে জয়লাভ করেছে। জোটগতভাবে তারা ২১২টি আসনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। ফলে নতুন সরকার আত্মবিশ্বাসী এবং শক্তিশালীভাবে ক্ষমতা গ্রহণ করতে যাচ্ছে।

মঙ্গলবার সকাল ১০টায় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা প্রধান নির্বাচন কমিশনারের মাধ্যমে শপথ গ্রহণ করবেন। এরপর বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে বিএনপি তাদের সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচন করবেন। এই নেতা পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।

শপথ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলেছে। বিএনপি প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায়ী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে নিজেদের অভিজ্ঞতা ও দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করা হয়। অনুষ্ঠান স্থান হিসেবে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা নির্বাচিত হয়েছে। প্রথা অনুযায়ী অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিবৃন্দ, জ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদ, তিন বাহিনীর প্রধানগণ, বিশিষ্ট আইনজীবী, সাংবাদিক এবং কূটনীতিকদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকেও আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে পূর্বনির্ধারিত ‘ইন্ডিয়া-এআই ইমপ্যাক্ট সামিট’-এর কারণে তিনি উপস্থিত থাকতে পারবেন না। তার পরিবর্তে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা ও পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি ভারতের প্রতিনিধিত্ব করবেন।

শপথ অনুষ্ঠানের আন্তর্জাতিক উপস্থিতি বাংলাদেশের কূটনৈতিক গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে দেবে। এটি দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বচ্ছতা ও শক্তিশালী কর্মকাণ্ডের প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। শপথ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা সরকারের নতুন নীতিমালা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে নিজেদের প্রতিশ্রুতি জানাবেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান শুধুমাত্র সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রার নতুন সূচনা। অনুষ্ঠানটি সরকারের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা প্রদর্শন করবে।

শপথ গ্রহণের মাধ্যমে নতুন মন্ত্রিসভা দেশের অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আইনশৃঙ্খলা এবং কূটনৈতিক ক্ষেত্রে কার্যক্রম শুরু করবে। বিদেশি অতিথিদের উপস্থিতি নতুন সরকারের আন্তর্জাতিক নীতি ও কৌশলগত সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করবে।

এই অনুষ্ঠান বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ়ভাবে পরিচালনা করবে।