টেকনোক্র্যাট কোটায় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হলেন আমিনুল হক

0
11
টেকনোক্র্যাট কোটায় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হলেন আমিনুল হক

মাঠে তিনি ছিলেন দলের শেষ ভরসা—গোলপোস্টের অতন্দ্র প্রহরী। ফুটবল ছাড়ার পর রাজনীতিতেও ছিলেন সক্রিয়। এবার বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হক টেকনোক্র্যাট কোটায় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। ঢাকা-১৬ আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পরাজিত হলেও বিএনপির এই নেতাকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন আমিনুল হক। সংশ্লিষ্টদের মতে, বাংলাদেশে ক্রীড়াজগতের অনেকেই সংসদ সদস্য হয়ে মন্ত্রিত্ব বা রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পেয়েছেন, তবে সংসদ সদস্য না হয়েও টেকনোক্র্যাট কোটায় কোনো সাবেক ক্রীড়াবিদের মন্ত্রী হওয়ার ঘটনা বিরল—এমন আলোচনা রয়েছে ক্রীড়াঙ্গনে।

নির্বাচনে আমিনুল হক ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী কর্নেল (অব.) আব্দুল বাতেনের কাছে পরাজিত হন। তবে সংবিধান অনুযায়ী মন্ত্রিসভার একটি অংশ টেকনোক্র্যাট হিসেবে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে, যেখানে সাধারণত দলীয় ত্যাগ, বিশেষ দক্ষতা বা সংশ্লিষ্ট খাতে গ্রহণযোগ্যতাকে বিবেচনায় আনা হয়। আমিনুল হকের ক্ষেত্রে তার রাজনৈতিক সক্রিয়তা এবং ক্রীড়াঙ্গনে দীর্ঘদিনের পরিচিতি—দুটিই ভূমিকা রেখেছে বলে দলীয় সূত্রে ধারণা করা হচ্ছে।

নব্বইয়ের দশকে ফরাশগঞ্জ দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করা আমিনুল হক পরে আবাহনী, মোহামেডান ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদের হয়ে খেলেছেন। গোলরক্ষক হিসেবে তার পারফরম্যান্স, বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে সেভ এবং পেনাল্টি ঠেকানোর দক্ষতা, তাকে আলাদা পরিচিতি দেয়। ২০০৩ সালে বাংলাদেশের সাফ জয়ে তার ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন অনেক ক্রীড়া বিশ্লেষক। তিনি ২০১০ এসএ গেমসেও জাতীয় দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন।

ফুটবল থেকে অবসরের পর তিনি বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হন। দলীয় কর্মসূচি ঘিরে মামলা, হামলা ও কারাবরণের অভিজ্ঞতার কথাও তার অনুসারীরা দীর্ঘদিন ধরে তুলে আসছেন। ক্রীড়াঙ্গনে একটি অংশ মনে করে, দেশের ক্রীড়াব্যবস্থায় সংস্কার ও পৃষ্ঠপোষকতা জোরদারে মাঠের অভিজ্ঞতা থাকা একজন নেতৃত্বের জায়গায় আসা ইতিবাচক হতে পারে।

এর আগে ক্রীড়াঙ্গন থেকে সাদেক হোসেন খোকা, সালাম মুর্শেদী, মাশরাফি বিন মর্তুজা, নাজমুল হাসান পাপন ও সাকিব আল হাসানসহ অনেকেই সংসদে গেছেন। তবে সংসদ সদস্য না হয়েও সরাসরি টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রিসভায় যুক্ত হওয়ার ঘটনাটি আমিনুল হকের ক্ষেত্রে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।