ঢাকা সফররত পাকিস্তানের পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও বিশেষ উদ্যোগবিষয়ক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অধ্যাপক আহসান ইকবাল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের প্রতিনিধি হিসেবে ঢাকায় এসে তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন বার্তাও পৌঁছে দেন।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীতে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে বাংলাদেশ–পাকিস্তান সম্পর্ককে নতুন গতি দেওয়ার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। ঢাকায় পাকিস্তান হাইকমিশনের দেওয়া এক বিবৃতিতে বৈঠকের এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, বৈঠকে দুই পক্ষ বাণিজ্য, সামুদ্রিক সংযোগ, শিল্প সহযোগিতা, যুব উন্নয়ন, ডিজিটাল অর্থনীতি এবং শিক্ষা খাতে অংশীদারিত্ব সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি দুই দেশের বড় তরুণ জনগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিক অগ্রগতির সম্ভাবনাময় শক্তি হিসেবে উল্লেখ করে দক্ষতা উন্নয়ন, উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা তৈরিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়ে একমত হন তারা। উদীয়মান প্রযুক্তি, বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে সহযোগিতা জোরদার, সরবরাহ শৃঙ্খল সংযোগ বৃদ্ধি, রপ্তানি উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক বাজারে যৌথ উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা হয়।
অধ্যাপক আহসান ইকবাল বৈঠকে ‘পাকিস্তান–বাংলাদেশ নলেজ করিডর’ উদ্যোগের প্রস্তাব তুলে ধরেন, যার আওতায় উচ্চশিক্ষা, গবেষণা, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং শিক্ষার্থী বিনিময় কার্যক্রম সম্প্রসারণের কথা বলা হয়। এছাড়া আল্লামা ইকবালের ১৫০তম জন্মবার্ষিকী যৌথভাবে উদযাপনের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক সহযোগিতা আরও জোরদারের প্রস্তাবও দেন তিনি।
বৈঠক শেষে দুই নেতা বাস্তবমুখী সহযোগিতা ত্বরান্বিত করা, আঞ্চলিক সংযোগ বাড়ানো এবং ভূ-অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব শক্তিশালী করার মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ার জনগণের সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।