টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপপর্ব থেকে অস্ট্রেলিয়ার বিদায়ের পর দলটির বোলিং আক্রমণ ও দল নির্বাচন নিয়ে দেশটির গণমাধ্যম ও ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মধ্যে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। ২০২১ সালের চ্যাম্পিয়নরা শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত এবারের বিশ্বকাপ থেকে মঙ্গলবার বিদায় নেয়। জিম্বাবুয়ে ও আয়ারল্যান্ডের ম্যাচ বৃষ্টিতে একটি বলও না হওয়ায় পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। উভয় দল এক পয়েন্ট করে পাওয়ায় সমীকরণে ছিটকে যায় অস্ট্রেলিয়া।
অনেকেই অস্ট্রেলিয়ার এবারের অভিযানকে “বিশৃঙ্খল” হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই দলকে ধাক্কা দেয় চোট সমস্যা। প্রধান পেসার প্যাট কামিন্স ও জশ হ্যাজেলউড চোটের কারণে ছিটকে যান। অধিনায়ক মিচেল মার্শ অনুশীলনে কুঁচকিতে আঘাত পেয়ে প্রথম দুই ম্যাচ খেলতে পারেননি। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নেওয়া মিচেল স্টার্কও না থাকায় অস্ট্রেলিয়ার পেস আক্রমণকে “সাবেক গৌরবের ছায়ামাত্র” বলে মন্তব্য করেছে দেশটির প্রভাবশালী দৈনিক দ্য অস্ট্রেলিয়ান।
পত্রিকাটি আরও লিখেছে, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ছয়টি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া পাঁচটি জয় ও একটি ড্র করেছিল। কিন্তু ওই সময় সিরিজ জয়ে অবদান রাখা একাধিক খেলোয়াড় বড় মঞ্চে এসে প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফর্ম করতে ব্যর্থ হয়েছেন। প্রতিবেদনে ক্যামেরন গ্রিন, টিম ডেভিড, জশ ইংলিস, জেভিয়ার বার্টলেট ও বেন ডয়ারশুইসের পারফরম্যান্সে বড় পতনের কথা উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি ভারত ও পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ হারও সমালোচনাকে আরও উসকে দিয়েছে বলে মন্তব্য করা হয়েছে।
দল নির্বাচনের দিকেও কড়া প্রশ্ন তুলেছে অস্ট্রেলিয়ান মিডিয়া। কুপার কনোলিকে দলে নেওয়ার সিদ্ধান্তকে “বলির পাঁঠা” বানানোর মতো ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। টেস্ট তারকা স্টিভ স্মিথকে শুরুতে দলে না রাখা নিয়েও উঠেছে বিতর্ক। বিগ ব্যাশ লিগে ওপেনিংয়ে দারুণ ফর্মে থাকা এবং স্পিনের বিপক্ষে দক্ষ স্মিথকে শুরু থেকেই স্কোয়াডে না রাখা এবং মার্শ চোট পাওয়ার পাঁচ দিন পরও কেন তিনি কলম্বোতে ছিলেন না—এ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে দ্য অস্ট্রেলিয়ান।
শেষ পর্যন্ত জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অপ্রত্যাশিত হারের পর গত সপ্তাহে স্মিথকে দলে অন্তর্ভুক্ত করা হলেও, সোমবার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাঁচা-মরার লড়াইয়ের ম্যাচে তাকে একাদশে রাখা হয়নি। ওই ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার মিডল অর্ডার ভেঙে পড়ে এবং তারা আট উইকেটে হেরে যায়।
এদিকে সাবেক অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার ব্র্যাড হগ ব্রিটিশ স্পোর্টস রেডিও টকস্পোর্টকে বলেছেন, “আমাদের বোলিং গভীরতা নেই, আর সেটাই স্পষ্ট হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “এই বিশ্বকাপের জন্য আমরা যথেষ্ট প্রস্তুত ছিলাম না। এই অবস্থায় আমরা যা পেয়েছি, তা হয়তো প্রাপ্যই।” হগের মতে, এই ব্যর্থতার পর নির্বাচক ও কোচিং স্টাফদের ওপর চাপ আরও বাড়বে।