সাহিবজাদা ফারহানের রেকর্ড গড়া সেঞ্চুরিতে বড় সংগ্রহ দাঁড় করায় পাকিস্তান, এরপর বল হাতে উসমান তারিক ও শাদাব খানের তোপে নামিবিয়াকে রীতিমতো উড়িয়ে দিয়ে আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দশম আসরের সুপার এইটে উঠে গেল তারা। কলম্বোয় বুধবার ‘এ’ গ্রুপের ম্যাচে নামিবিয়াকে ১০২ রানে হারায় পাকিস্তান। ১৯৯ রানের লক্ষ্য দিয়ে তারা প্রতিপক্ষকে গুটিয়ে দেয় মাত্র ৯৭ রানে।
এই জয় পাকিস্তানের জন্য বেশ কিছু দিক থেকে স্মরণীয়। বিশ্বকাপ ইতিহাসে তাদের এটি প্রথম ১০০+ রানের ব্যবধানে জয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ম্যাচের নায়ক ফারহান খেলেন ৫৮ বলে অপরাজিত ১০০ রানের ইনিংস। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এটি তার প্রথম সেঞ্চুরি। পাশাপাশি এটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের দ্রুততম শতক বলেও জানানো হয়।
এবারের বিশ্বকাপে পাকিস্তানের হয়ে সেঞ্চুরি করা দ্বিতীয় ব্যাটার ফারহান। এর আগে ২০১৪ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করেছিলেন আহমেদ শেহজাদ (৫৮ বলে)। ফারহানের এই সেঞ্চুরিতে তিনি চলতি আসরে সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহকও হয়েছেন—তার রান এখন ২২০। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা এইডেন মার্করামের রান ১৭৮।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই বিশ্বকাপেও সেঞ্চুরি ছিল বিরল। তবে গত দুই দিনে তিনটি শতকের দেখা মিলেছে—শ্রীলঙ্কার পাথুম নিশাঙ্কা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এবং কানাডার ইয়ভরাজ সিং নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে শতক করেন। নিশাঙ্কা জিতলেও হারের দলে ছিলেন ইয়ভরাজ।
পাকিস্তানের ইনিংসের শুরুতে আসে ৪০ রানের উদ্বোধনী জুটি। সাইম আয়ুব ১২ বলে ১৪ রান করে ফিরলেও এরপর ফারহানের সঙ্গে ৪২ বলে ৬৭ রানের জুটি গড়ে ইনিংসকে এগিয়ে নেন সালমান আলি আগা। সালমান করেন ২৩ বলে ৩৮ রান (৩ চার, ২ ছক্কা)। ফারহান ৩৭ বলে ফিফটি ছুঁয়ে পরে আরও আগ্রাসী হয়ে ওঠেন; দ্বিতীয় ফিফটি করেন মাত্র ২০ বলে। তার সেঞ্চুরি ইনিংসে ছিল ১১ চার ও ৪ ছক্কা।
খাজা নাফে ৫ বলে ৫ রান করে আউট হওয়ার পর শাদাব খানের সঙ্গে চতুর্থ উইকেটে ফারহান গড়েন ৪০ বলে অপরাজিত ৮১ রানের জুটি। দ্রুত রান তোলার কৌশলে এদিন চারে নামানো হয়নি বাবর আজমকে; সুযোগ দেওয়া হয় নাফে ও শাদাবকে। নামিবিয়ার জ্যাক ব্রেসেল ২ উইকেট নিলেও ৪ ওভারে খরচ করেন ৪৮ রান। নির্ধারিত ২০ ওভারে পাকিস্তানের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৯৮/৩।
১৯৯ রানের লক্ষ্য তাড়ায় নামিবিয়া শুরুতে ৩২ রানের উদ্বোধনী জুটি পেলেও এরপর দ্রুত ছন্দ হারায়। দুজন ব্যাটার দুই অঙ্কে পৌঁছাতে পারলেও বড় ইনিংস কেউ গড়তে পারেননি। পাকিস্তানের বোলিং আক্রমণে উসমান তারিক ১৬ রানে ৪ উইকেট নেন এবং শাদাব খান ১৯ রানে শিকার করেন ৩ উইকেট। বাকিদের সহায়তায় নামিবিয়া থামে ৯৭ রানে।
এই হার দিয়ে চার ম্যাচের চারটিতেই পরাজিত হয়ে আসর শেষ করল নামিবিয়া। অন্যদিকে পাকিস্তান চার ম্যাচের তিনটি জিতে সুপার এইটে জায়গা করে নিল।