ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়ীয়া উপজেলার জোরবাড়ীয়া (কালাকান্দা) এলাকায় পূর্ব বিরোধ ও নির্বাচনী দ্বন্দ্বের জেরে সংঘবদ্ধ হামলায় মোছাঃ শাহিদা বেগম (৭৩) নামে এক বৃদ্ধা গুরুতর আহত হয়েছেন। তিনি প্রয়াত এক সাবেক পুলিশ কনস্টেবলের স্ত্রী। এ ঘটনায় সাতজনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং পুলিশ ইতোমধ্যে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে জামিনে মুক্ত হয়ে কয়েকজন আসামি পুনরায় হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ বেলা আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে জোরবাড়ীয়া গ্রামের একটি বসতবাড়ির উত্তর পাশের রাস্তায় দেশীয় অস্ত্রসহ কয়েকজন ব্যক্তি এসে গালিগালাজ ও হুমকি দিতে থাকে। একপর্যায়ে তারা সংঘবদ্ধভাবে হামলা চালায়। হামলায় শাহিদা বেগমের মাথার দুই পাশে গুরুতর আঘাত লাগে এবং মুখে মারাত্মক জখম হয়। একপর্যায়ে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে ফুলবাড়ীয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পরিবারের দাবি, তিনি এখনও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন এবং তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটছে।
এ ঘটনায় আহতের ছেলে মোঃ সাদ্দাম হোসেন বাদী হয়ে ফুলবাড়ীয়া থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে মোঃ রুবেল মিয়া (৩০), মোঃ আব্দুস সালাম ওরফে ছালু (৫০), মোঃ মাইন উদ্দিন (৪৮), মোঃ আবুল হোসেন (৫৮), মোঃ শরিফুল ইসলাম (২২), মোঃ দেলোয়ার হোসেন (৩৫) ও মোঃ দুলাল মিয়া (৫২)কে। তারা সবাই জোরবাড়ীয়া (কালাকান্দা) গ্রামের বাসিন্দা। অভিযোগে বলা হয়, জমিজমা সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধ এবং সাম্প্রতিক ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্বের জেরে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালানো হয়। পাশাপাশি প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়।
আহত শাহিদা বেগম দাবি করেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছিলেন। সে ক্ষোভ এবং জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের কারণেই নির্বাচনের আগের দিন তার ও তার পরিবারের ওপর হামলা চালানো হয়। রুবেল, আব্দুস সালাম (ছালু) ও মাইন উদ্দিনসহ কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাকে আঘাত করে বলে তিনি অভিযোগ করেন। এতে তিনি গুরুতর জখম হয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়েন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের মধ্যে মোঃ আবুল হোসেন ও মোঃ দুলাল মিয়া গত ১৮ ফেব্রুয়ারি জামিনে মুক্ত হয়ে দলবল নিয়ে তার বাড়ির সামনে এসে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং মামলা তুলে নেওয়ার জন্য প্রাণনাশের হুমকি দেন। এতে তিনি ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
ফুলবাড়ীয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ সাইফুল্লাহ সাইফ জানান, ঘটনার পরপরই অভিযান চালিয়ে চারজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। জামিনে মুক্ত হয়ে হুমকি দেওয়ার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত সব আসামির গ্রেপ্তার এবং ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।