আফগানিস্তানে বিমান হামলা চালাল পাকিস্তান

0
8
আফগানিস্তানে বিমান হামলা চালাল পাকিস্তান

ইসলামাবাদের খাদিজাতুল কুবরা শিয়া মসজিদে আত্মঘাতী বোমা হামলার জের ধরে আফগানিস্তানের ভূখণ্ডে সরাসরি বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। সোমবার গভীর রাত থেকে মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত পখতিকা ও নানগরহার প্রদেশে টানা অভিযান চালানো হয় বলে আফগান সূত্র আল জাজিরাকে নিশ্চিত করেছে।

পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পাকিস্তান সেনাবাহিনী তেহরিক-ই তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি), তার সহযোগী গোষ্ঠী এবং ইসলামিক স্টেট খোরাসান (আইএস-কে)-এর সাতটি ঘাঁটিতে একযোগে হামলা চালিয়েছে। বিবৃতিতে দাবি করা হয়, ইসলামাবাদ, বাজাউর ও বান্নুতে সাম্প্রতিক যে সিরিজ হামলা হয়েছে, তার পরিকল্পনা ও নির্দেশনা এসেছে আফগানিস্তানে অবস্থানরত এসব গোষ্ঠীর শীর্ষ নেতাদের কাছ থেকে।

আফগান সূত্র জানিয়েছে, পখতিকা প্রদেশের একটি মাদ্রাসায় ড্রোন হামলা হয়েছে এবং নানগরহারেও একাধিক স্থানে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। তালিবান সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া আসেনি।

গত ৬ ফেব্রুয়ারি জুমার নামাজের সময় ইসলামাবাদের তাড়লাই কালান এলাকার খাদিজাতুল কুবরা মসজিদে আত্মঘাতী হামলায় ৩১ জন নিহত ও প্রায় ১৭০ জন আহত হন। হামলার দায় স্বীকার করে আইএস-কে। এরপর গত রোববার বান্নুতে আত্মঘাতী হামলায় একজন লেফটেন্যান্ট কর্নেলসহ দুই সেনা এবং সোমবার বাজাউরে বিস্ফোরকভর্তি গাড়ি হামলায় ১১ সেনা ও এক শিশু নিহত হওয়ার পর পাকিস্তানের ধৈর্যচ্যুতি ঘটে।

পাকিস্তানের অভিযোগ, ২০২০ সালের দোহা চুক্তিতে তালিবান যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল—আফগান ভূখণ্ড অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হবে না—তা তারা পুরোপুরি লঙ্ঘন করছে। ইসলামাবাদ বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও কাবুল ‘কোনো কার্যকর পদক্ষেপ’ নেয়নি বলে পাকিস্তানি বিবৃতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “পাকিস্তান সবসময় অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতার পক্ষে ছিল, কিন্তু নিজের নাগরিকদের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। যারা আমাদের মাটিতে রক্ত ঝরাচ্ছে, তাদের আফগানিস্তানে নিরাপদ আশ্রয় দেওয়া হলে আমরা চুপ করে থাকব না।”

বিশ্লেষকরা বলছেন, তালিবান শাসনের পর এটিই পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযান আফগান ভূখণ্ডে। এর ফলে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে উত্তেজনা নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে এবং দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।