জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে পুলিশের গুলিতে নিহত ইমাম হোসেন তাইম হত্যা মামলায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান ও যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসানসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করে বিচার কার্যক্রম শুরুর আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল এই আদেশ প্রদান করেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
মামলায় অভিযুক্ত ১১ আসামির মধ্যে রয়েছেন সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী এবং যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান। এদের মধ্যে সাবেক ওসি আবুল হাসান ও সাবেক ওসি (তদন্ত) জাকির হোসেন বর্তমানে গ্রেপ্তার অবস্থায় রয়েছেন। বাকি ৯ আসামি এখনো পলাতক।
২০২৪ সালের ২০ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন তুঙ্গে থাকার সময় ঘটে এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড। সেদিন বন্ধুর সঙ্গে চা পান করতে বের হয়ে যাত্রাবাড়ী এলাকায় পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান তাইম।
আরও করুণ বিষয় হলো, তাইমের বাবা মো. ময়নাল হোসেন ভূঁইয়া নিজেও রাজারবাগ পুলিশ লাইনসের একজন উপ-পরিদর্শক। নিজেরই সহকর্মীদের গুলিতে সন্তান হারানোর যন্ত্রণা তাঁকে বইতে হয়েছে। দীর্ঘ খোঁজাখুঁজির পর ছেলের বুলেটবিদ্ধ মরদেহ পেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে ফোন করে আর্তনাদ করেছিলেন ময়নাল। তিনি বলেছিলেন, ‘স্যার, আমার ছেলেটা মারা গেছে। বুলেটে ওর বুক ঝাঁঝরা হয়ে গেছে। স্যার, আমার ছেলে আর নেই।’ এরপর প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছিলেন, ‘একজনকে মারতে কতগুলো গুলি লাগে, স্যার?’ — পুলিশ কর্মকর্তা বাবার এই আর্তচিৎকার সেদিন গোটা দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছিল।
উল্লেখ্য, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নির্বিচার গুলিবর্ষণে শত শত নিরীহ মানুষ প্রাণ হারান। এসব ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনতে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একের পর এক মামলায় অভিযোগ গঠন ও বিচার কার্যক্রম এগিয়ে চলেছে। তাইম হত্যা মামলায় অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার প্রক্রিয়া আরও একধাপ এগিয়ে গেল বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।