শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় পদ্মা নদীতে চলাচলরত বালুবাহী নৌযান থেকে চাঁদা আদায়ের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
আটকরা হলেন নড়িয়া পৌরসভার ঢালীপাড়া এলাকার সাত্তার ব্যাপারীর ছেলে সোহাগ ব্যাপারী (৩৮), কানারগাঁও এলাকার মন্টু হাওলাদারের ছেলে রাকিব হাওলাদার (২৩) এবং জাজিরা উপজেলার আমির মল্লিকের কান্দি এলাকার খোকন মল্লিকের ছেলে আরিফ মল্লিক ওরফে সানজিম (২১)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েকদিন ধরে নড়িয়ার পদ্মা নদীতে চলাচলরত বালুবাহী বাল্কহেড থেকে একটি সংঘবদ্ধ চক্র চাঁদা আদায় করে আসছিল। শুক্রবার দুপুরে চাঁদাবাজির একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি ট্রলারে করে নদীতে চলাচলরত একটি বাল্কহেডে উঠে চাঁদা আদায় করছেন। নদীর তীর থেকে এক ব্যক্তি মুঠোফোনে ঘটনাটি ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন।
ঘটনাটি নজরে আসার পর নড়িয়া থানা পুলিশ রাতভর পদ্মা নদীতে অভিযান চালায়। শনিবার ভোরে অভিযানের সময় ট্রলারে থাকা রাকিব হাওলাদার ও আরিফ মল্লিককে আটক করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সোহাগ ব্যাপারীকে আটক করে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা দীর্ঘদিন ধরে বাল্কহেড থেকে চাঁদা আদায়ের কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নড়িয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সুকান্ত দত্ত বলেন, এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করে ২০০২ সালের আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করা হয়েছে। পরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়। চক্রটির সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এ বিষয়ে শরীয়তপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি শফিকুর রহমান কিরণ বলেন, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস দমনে তারা সর্বদা প্রস্তুত। কেউ দলের পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদাবাজিতে জড়িত থাকলেও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দখলদারদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও জানান, মাদক ব্যবসায়ীদের ধরিয়ে দিতে পারলে তথ্যদাতাকে এক লাখ টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে।