বিএনপি-জামায়াত সমর্থকদের দ্বন্দ্ব, মসজিদে তালা; বাইরে ফজরের নামাজ আদায় 

0
5
বিএনপি-জামায়াত সমর্থকদের দ্বন্দ্ব, মসজিদে তালা; বাইরে ফজরের নামাজ আদায় 

সিরাজগঞ্জে ইমাম নিয়োগকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে দ্বন্দ্বের জেরে একটি মসজিদে তালা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) ভোরে মুসল্লিদের মসজিদের বাইরে ফজরের নামাজ আদায় করতে হয়। ঘটনাটি ঘটে সদর উপজেলার বাগবাটি ইউনিয়নের পেচিবাড়ি জামে মসজিদে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সেহেরির পর ফজরের নামাজ পড়তে গিয়ে মুসল্লিরা মসজিদের প্রধান ফটকে তালা ঝুলতে দেখেন। উপায় না পেয়ে তারা মসজিদের বাইরেই নামাজ আদায় করেন। খবর পেয়ে সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও মসজিদ কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে তালা খুলে নামাজের ব্যবস্থা করা হয়।

বাগবাটি ইউনিয়ন কৃষকদলের সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম মোস্তফা ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য মোকাদ্দেস আলী অভিযোগ করেন, ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ ক্ষমতা ছাড়ার পর জামায়াত-সমর্থিত ব্যক্তিরা এককভাবে মসজিদ কমিটি গঠন করেন এবং আব্দুল হাই নামে একজনকে ইমাম নিয়োগ দেন। তার কেরাত পছন্দ না হওয়ায় গ্রামের অনেকেই ইমাম পরিবর্তনের দাবি তোলেন। সিদ্ধান্ত হয়, ওয়াক্তের নামাজ আব্দুল হাই পড়াবেন, আর তারাবি পড়াবেন অন্য একজন ইমাম।

তাদের দাবি, এ বিষয়ে বৈঠকের জন্য কমিটির সভাপতি আবুল কালাম মাস্টারকে জানানো হলেও সেক্রেটারি রফিকুল ইসলাম বসতে রাজি হননি। পরে নতুন ইমাম নিয়ে তারাবি পড়াতে গেলে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে যুবদল নেতা লিটনকে ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া হয়। এতে উভয়পক্ষের মধ্যে মারামারি হয়। পরবর্তীতে বৈঠকের সিদ্ধান্ত হলেও স্থান নির্ধারণ নিয়ে আপত্তির কারণে তা আর হয়নি। গোলাম মোস্তফার অভিযোগ, শনিবার রাতে তারা অন্য ইমাম দিয়ে মাগরিব ও এশার নামাজ আদায় করেন। রোববার সকালে এসে দেখেন মসজিদে তালা, যা জামায়াত-সমর্থকরাই দিয়েছেন বলে তার দাবি।

অন্যদিকে মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি ও জামায়াত-সমর্থক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ইমাম আব্দুল হাই ভালো নামাজ পড়াতে পারেন না—এ অভিযোগে তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তবে কে বা কারা মসজিদে তালা দিয়েছে, তা তিনি জানেন না। স্থানীয় ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মো. ছানোয়ার হোসেন বলেন, বিষয়টিকে দলীয় রূপ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এটি গ্রামের অভ্যন্তরীণ বিরোধ। মসজিদে তালা দেওয়ার ঘটনা নিন্দনীয় এবং স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সঙ্গে বসে বিষয়টি সমাধান করা হবে।

সদর থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক শফিকুর রহমান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উপস্থিত লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তবে কে তালা দিয়েছে, সে বিষয়ে কেউ সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেননি। পরে সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতায় তালা খুলে নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।