ময়মনসিংহ আনন্দ মোহন কলেজের রসায়ন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী নুরুল্লাহ শাওন (২৬) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠেছে পুরো নগরী। সহপাঠীদের তীব্র বিক্ষোভ, আল্টিমেটাম এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যের কড়া হুঁশিয়ারির মুখে শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার মধ্যে এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার চর জাকালিয়া গ্রামের সন্তান শাওনের এই নির্মম মৃত্যু প্রশাসনের নিরাপত্তা ব্যর্থতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে। শাওন ও তাঁর বন্ধু রিয়াদ ব্রহ্মপুত্র নদের চরে বেড়াতে গেলে সেখানে ছিনতাইকারী চক্রের কবলে পড়েন। ছিনতাইকারীদের ধাওয়ায় রিয়াদ কোনোমতে প্রাণে রক্ষা পেলেও নিখোঁজ হয়ে যান শাওন। এরপর থেকে তাঁর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।
নিখোঁজের দুই দিন পর শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে জয়নুল আবেদিন উদ্যান সংলগ্ন নদ থেকে শাওনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে একুশে ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে ফুল দিতে আসা প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের গাড়ি আটকে টাউন হল মোড়ে দীর্ঘক্ষণ বিক্ষোভ চালান শিক্ষার্থীরা।
শনিবার দুপুর ২টায় আনন্দ মোহন কলেজ মাঠে নিহত শাওনের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে কয়েকশ ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় ঘেরাও করেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের চরম গাফিলতির তীব্র সমালোচনা করেন এবং শনিবার রাত ৮টার মধ্যে খুনিদের গ্রেপ্তারের আল্টিমেটাম দেন।
শিক্ষার্থীদের এই আল্টিমেটামের পরিপ্রেক্ষিতে দুপুর থেকেই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের ১০টি পৃথক দল একযোগে অভিযানে নামে। ময়মনসিংহের বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে রাত ১০টার মধ্যে ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—বিশাল বিন, বিপুল বিন, রাজ বিন, হৃদয়, দেবরাজ বিন ও মুন্না বিন। তাঁদের সকলের বাড়ি ময়মনসিংহের কোতোয়ালি থানাধীন চর জেলখানা এলাকার বিনপাড়ায় বলে জানা গেছে।
শাওনের জানাজায় অংশ নিয়ে শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ। তিনি প্রশাসনের ব্যর্থতাকে সরাসরি দায়ী করে বলেন, ‘শহরে চুরি ও ছিনতাইয়ের উপদ্রব যে পর্যায়ে পৌঁছেছে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।’ তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আসামিরা গ্রেপ্তার না হলে পুলিশের বিরুদ্ধেই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবদুল্লাহ আল মামুন গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডে জড়িত আসামিদের শনাক্ত করা হয়েছে এবং ইতোমধ্যে ৬ জনকে আটক করা হয়েছে। বাকি পলাতক আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। শিক্ষার্থীদের দাবি ও জননিরাপত্তার বিষয়টিকে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছি।’