পিলখানা হত্যাকাণ্ড ছিল সার্বভৌমত্ব নস্যাতের অপপ্রয়াস: প্রধানমন্ত্রী

0
14
পিলখানা হত্যাকাণ্ড ছিল সার্বভৌমত্ব নস্যাতের অপপ্রয়াস: প্রধানমন্ত্রী

পিলখানায় বিডিআর হত্যাকাণ্ডের ঘটনা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে নস্যাৎ করার একটি অপপ্রয়াস ছিল বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার সেনানিবাসের মাল্টি পারপাস হলে জাতীয় শহীদ সেনা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধ ও স্বাধীনতা-পরবর্তী দেশ গঠনে সেনাবাহিনীর গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস রয়েছে। সেনাবাহিনী দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতীক উল্লেখ করে তিনি বলেন, পিলখানার মর্মান্তিক ঘটনা জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোর দুর্বলতাকে সামনে এনেছে। তাই সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোকে আরও আধুনিক, সময়োপযোগী ও শক্তিশালী করতে সরকার কাজ করবে।

শহীদ পরিবারের সদস্যদের কল্যাণে তাদের সন্তানদের শিক্ষা, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি মহান আল্লাহর কাছে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।

তিনি বলেন, ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির নির্মম ঘটনা জাতীয় জীবনে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছে, যার বেদনা আজও বহমান। ৫৭ জন দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জনের শাহাদাতের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, প্রতিটি নাম একটি পরিবারের নিভে যাওয়া আলোর গল্প।

প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশে ফিরে বনানী সামরিক কবরস্থানে শহীদদের কবর জিয়ারত করে তিনি পরিবারের দীর্ঘদিনের বেদনা ও বিচারপ্রাপ্তির আকাঙ্ক্ষা উপলব্ধি করেছেন। ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির ঘটনাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্মরণ করা জাতীয় দায়িত্ব বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি আরও বলেন, সীমান্তরক্ষী বাহিনীর শিকড় স্বাধীনতার ইতিহাসে প্রোথিত। ১৯৭১ সালে সেনাবাহিনীর পাশাপাশি তৎকালীন ইপিআরের সদস্যরাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। পরবর্তীকালে সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে সুসংহত করতে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও পুনর্গঠন করা হয়। জনগণের রায়ে নির্বাচিত সরকার হিসেবে সীমান্ত বাহিনীকে আরও আধুনিক ও সুসংহত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।