মিয়ানমারে জান্তার বিমান হামলায় নিহত অন্তত ২৬ 

0
20
মিয়ানমারে জান্তার বিমান হামলায় নিহত অন্তত ২৬ 

মিয়ানমার-এর পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে ক্ষমতাসীন সামরিক জান্তার বিমান হামলায় অন্তত ২৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও কমপক্ষে ১৯ জন। বুধবার স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে এএফপি।

পশ্চিমাঞ্চলীয় আরাকান রাজ্য-এর পোনন্যাগুন শহরের ইয়োয়েঙ্গু গ্রামে বিমান হামলায় নারী ও শিশুসহ ১৭ জন নিহত এবং ১৪ জন আহত হন। গ্রামটি রাজ্যের রাজধানী সিত্তে থেকে প্রায় ৩৩ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত। ২০২৪ সালের মার্চে সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইরত সশস্ত্র সংগঠন আরাকান আর্মি শহরটির নিয়ন্ত্রণ নেয়।

পরিচয় গোপন রাখার শর্তে পোনন্যাগুনের এক বাসিন্দা জানান, আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রাণহানির সংখ্যা বাড়তে পারে। হামলায় অন্তত পাঁচটি বাড়ি পুড়ে গেছে বলেও তিনি জানান।

অন্যদিকে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় সাগাইং অঞ্চল-এ পৃথক এক হামলায় দুই শিশুসহ ৯ জন বেসামরিক নিহত এবং পাঁচজন আহত হয়েছেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, সামরিক বাহিনীর প্যারামোটর হামলায় এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। মিনমু শহরের এক বাসিন্দা বলেন, স্থানীয়রা ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য স্টারলিংক ডিভাইস ব্যবহার করছিলেন—এমন একটি স্থানে দুটি প্যারামোটর থেকে তিনটি বোমা ফেলা হয়।

২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচিত সরকার উৎখাতের পর থেকে দেশটিতে জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সামরিক বাহিনীর সংঘর্ষ তীব্র আকার ধারণ করে। ওই অভ্যুত্থানে অং সান সু চি নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি সরকারের পতন ঘটে। সেনাবাহিনীর ক্ষমতা দখল দেশটিকে দীর্ঘ জরুরি শাসনের মধ্যে ঠেলে দেয়, যা আনুষ্ঠানিকভাবে গত জুলাইয়ে শেষ হয়। গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত তিন ধাপে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলোর দাবি, অভ্যুত্থানের পর থেকে সামরিক বাহিনী ও বিরোধী গোষ্ঠীগুলোর সংঘর্ষে ৬ হাজারের বেশি মানুষ নিহত এবং প্রায় ৩০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।