মেক্সিকোর জালিস্কো প্রদেশে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে জালিস্কো নিউ জেনারেশন কার্টেল (সিজেএনজি)-এর সংঘর্ষের সুযোগে পুয়ের্তো ভাল্লার্তা শহরের একটি কারাগার ভেঙে পালিয়েছে বেশ কয়েকজন কয়েদি। গত ২২ ফেব্রুয়ারি রোববার এ ঘটনা ঘটে।
প্রশান্ত মহাসাগর উপকূলের পর্যটননগরী পুয়ের্তো ভাল্লার্তা দীর্ঘদিন ধরে সিজেএনজি কার্টেলের প্রভাবাধীন ছিল। ওইদিন জালিস্কো প্রদেশে সেনাবাহিনীর ন্যাশনাল গার্ড শাখার এক বিশেষ অভিযানে সিজেএনজি প্রধান নেমেসিও রুবেন ওসেগুয়েরা কেরভান্তেস (৫৯), ওরফে ‘এল মেঞ্চো’, নিহত হন বলে জানানো হয়। অভিযানে তার কয়েকজন অনুসারীও নিহত হন। তবে অভিযানে অংশ নেওয়া ন্যাশনাল গার্ডের ২৫ সদস্যও প্রাণ হারান।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে জানানো হয়, এল মেঞ্চোর নিহত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পুয়ের্তো ভাল্লার্তায় ব্যাপক অস্থিরতা দেখা দেয়। কার্টেল সদস্যরা শহরের বিভিন্ন সড়ক অবরোধ করে, পুলিশ স্টেশনে হামলা চালায় এবং একাধিক যানবাহনে আগুন ধরিয়ে দেয়।
এই অরাজকতার মধ্যেই সশস্ত্র কার্টেল সদস্যরা শহরের একটি কারাগারের ফটক ভেঙে দেয়। ফলে কারাগারের সব কয়েদি পালিয়ে যায়। গত তিন দিনে তাদের বেশিরভাগকে পুনরায় গ্রেপ্তার করা হলেও এখনও ২৩ জনের খোঁজ মেলেনি।
তিন দিন পর শহরের পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়েছে। সিজেএনজি অবরোধ তুলে নিয়েছে এবং সড়ক চলাচল পুনরায় শুরু হয়েছে। তবে সংঘর্ষের সময় কারাগারে মোট কতজন বন্দি ছিল এবং কতজনকে পুনরায় আটক করা হয়েছে— সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি জালিস্কোর প্রাদেশিক সরকার।
প্রাদেশিক সরকারের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পলাতক বন্দিদের ধরতে জালিস্কোর নিরাপত্তামন্ত্রী হুয়ান পাবলো হার্নান্দেজ দেশের অন্যান্য প্রদেশের কাছে সহযোগিতা চেয়েছেন। অন্যান্য প্রদেশ এ বিষয়ে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে বলে তিনি জানান।