দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে বড় ধরনের সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে পাকিস্তান। বৃহস্পতিবার রাতভর আফগানিস্তানের ২২টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে এই বিধ্বংসী বিমান হামলা চালানো হয়। পাকিস্তানের সামরিক মুখপাত্র আহমেদ শরিফ চৌধুরি জানিয়েছেন, এই অভিযানে অন্তত ২৭৪ জন তালেবান কর্মকর্তা ও যোদ্ধা নিহত হয়েছেন।
দীর্ঘদিনের সীমান্ত উত্তেজনা এখন পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে ‘উন্মুক্ত যুদ্ধে’ রূপ নিয়েছে। ডুরান্ড লাইন বরাবর পাকিস্তান সীমান্তে আফগান তালেবান বাহিনীর বড় আকারের হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে কাবুল, কান্দাহার ও পাকতিয়া শহরে এই বিমান হামলা চালায় ইসলামাবাদ। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ তালেবান সরকারের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন।
পাক সামরিক বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, হামলায় ২৭৪ জন নিহতের পাশাপাশি ৪০০-র বেশি তালেবান যোদ্ধা আহত হয়েছে। এছাড়া তারা ৮৩টি তালেবান ফাঁড়ি ধ্বংস এবং ১৭টি ফাঁড়ি দখল করার দাবি করেছে। এই লড়াইয়ে পাকিস্তানের ১২ জন সেনা নিহত ও ২৭ জন আহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে ইসলামাবাদ।
তবে আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নিহতের এই পরিসংখ্যান প্রত্যাখ্যান করেছে। কাবুলের দাবি অনুযায়ী, যুদ্ধে ৫৫ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছে এবং বেশ কয়েকজন তাদের হাতে বন্দি রয়েছে। বিপরীতে আফগান পক্ষে মাত্র ৮ জন নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছে তারা।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যেকোনো আগ্রাসী পরিকল্পনা গুঁড়িয়ে দিতে তার বাহিনী সর্বদা প্রস্তুত। তালেবানকে দমনে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী পূর্ণ সক্ষমতা রাখে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তবে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, উভয় পক্ষের হতাহতের এই বিশাল সংখ্যার ব্যবধান নিরপেক্ষ কোনো সূত্র থেকে এখনো যাচাই করা সম্ভব হয়নি।