কালীগঞ্জে শিশু তাবাচ্ছুমকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়: ঘাতকের স্বীকারোক্তি

0
12
কালীগঞ্জে শিশু তাবাচ্ছুমকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়: ঘাতকের স্বীকারোক্তি

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে নিখোঁজ শিশু তাবাচ্ছুমের মরদেহ উদ্ধারের পর পুলিশি তদন্তে বেরিয়ে এসেছে এক রোমহর্ষক কাহিনী। গ্রেপ্তারকৃত আবু তাহের নামের এক যুবক শিশুটিকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করার কথা স্বীকার করেছে। নিহত তাবাচ্ছুম বাদেডিহি গ্রামের ভাড়াটিয়া নজরুল ইসলামের মেয়ে। তার বাবা পেশায় একজন দর্জি এবং মা হালিমা খাতুন একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থায় কর্মরত।

ঘটনার বিস্তারিত জানিয়ে ঝিনাইদহ সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহফুজুর রহমান জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় কুষ্টিয়া শহরের একটি ভাড়া বাসা থেকে আবু তাহেরকে গ্রেপ্তার করা হয়। সে কালীগঞ্জ উপজেলার ফরাসপুর গ্রামের মৃত শফি উদ্দীনের ছেলে। কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জেল্লাল হোসেন জানান, আবু তাহের পেশায় একটি সিগারেট কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি এবং সে মাদকাসক্ত ছিল। তাবাচ্ছুমদের প্রতিবেশী হিসেবে সে বাদেডিহি গ্রামেই বসবাস করত।

তদন্তে জানা যায়, গত বুধবার দুপুরে চিপস ও জুস খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে তাবাচ্ছুমকে নিজের ঘরে ডেকে নিয়ে যায় আবু তাহের। সেখানে শিশুটির ওপর পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়। নির্যাতনের এক পর্যায়ে শিশুটি চিৎকার শুরু করলে ঘাতক তার পরনের লুঙ্গি দিয়ে তাবাচ্ছুমের মুখ চেপে ধরে। এতে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে শিশুটি দ্রুত মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। এরপর অপরাধ ধামাচাপা দিতে রাতের অন্ধকারে মরদেহটি একটি বস্তায় ভরে নিকটস্থ আব্দুল জব্বার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সেফটিক ট্যাংকে ফেলে দেয়।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে নিখোঁজ তাবাচ্ছুমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই নৃশংস ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়ে স্থানীয় বাসিন্দারা। শুক্রবার বিকেলে বারোবাজার এলাকায় কয়েকশ মানুষ এক বিশাল মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেন। জুমার নামাজ শেষে আয়োজিত এই কর্মসূচি থেকে ঘাতক আবু তাহেরের সর্বোচ্চ শাস্তি ও ফাঁসির দাবি জানানো হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here