নরসিংদীর মাধবদীতে চাঞ্চল্যকর কিশোরী ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের মূল আসামি নুরা এবং তার সহযোগী হযরত আলীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে গাজীপুরের মাওনা এবং ময়মনসিংহের গৌরীপুর এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। নরসিংদীর পুলিশ সুপার মো. আব্দুল্লাহ আল ফারুক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানায়, এ নিয়ে এই নৃশংস ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মোট ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হলো। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে স্থানীয় বিএনপি নেতা ও সাবেক ইউপি সদস্য আহাম্মদ আলী দেওয়ানসহ ৫ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আহাম্মদ আলী দেওয়ানের বিরুদ্ধে ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দিতে সালিশ করা এবং ভুক্তভোগী পরিবারকে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।
মাধবদী থানা সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সূত্রপাত প্রায় ১৫ দিন আগে। বখাটে নূরার নেতৃত্বে ৫-৬ জনের একটি দল ওই কিশোরীকে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। এই ঘটনার বিচার চেয়ে পরিবারটি স্থানীয় প্রভাবশালীদের দ্বারস্থ হলে সেখানে সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি আপস করার চেষ্টা করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, আপসের চেষ্টা ব্যর্থ হলে উল্টো ভুক্তভোগী পরিবারকেই গ্রাম ছাড়ার হুমকি দেওয়া হয়।
হত্যাকাণ্ডের বিবরণ দিয়ে পুলিশ জানায়, গত বুধবার রাতে নিহতের বাবা আশরাফ হোসেন তার মেয়েকে নিয়ে এক আত্মীয়ের বাড়িতে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে বড়ইতলা এলাকায় পৌঁছালে নূরার নেতৃত্বাধীন একদল দুর্বৃত্ত তাদের পথরোধ করে। তারা কিশোরীর বাবাকে ছুরির মুখে জিম্মি করে মেয়েটিকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। নিখোঁজের পরদিন বৃহস্পতিবার দুপুরে স্থানীয় একটি সরিষা ক্ষেত থেকে ওই কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। উদ্ধারকালে তার গলায় ওড়না পেঁচানো ছিল।
এই ঘটনায় স্থানীয় জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অপরাধীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী।