ইরানের সামরিক অভিযান শুরু: মার্কিন ঘাঁটি ও ইসরায়েলে আইআরজিসি’র প্রতিশোধমূলক হামলা

0
17
ইরানের সামরিক অভিযান শুরু: মার্কিন ঘাঁটি ও ইসরায়েলে আইআরজিসি’র প্রতিশোধমূলক হামলা

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এবং দেশটির শীর্ষস্থানীয় একাধিক সামরিক কর্মকর্তার মৃত্যুর পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে রণদামা বেজে উঠেছে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার জবাবে তেহরানের ‘ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী’ (আইআরজিসি) দেশ দুটির বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তু ও সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ আক্রমণ শুরু করেছে।

বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, আইআরজিসি এই অভিযানকে ইরানের ইতিহাসের সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক আক্রমণাত্মক অভিযান হিসেবে অভিহিত করেছে।

বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর দাবি, তারা ইতিমধ্যে ছয় দফায় পাল্টা হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ২৭টি সামরিক ঘাঁটিতে আঘাত হানা হয়েছে। পাশাপাশি ইসরায়েলের বাণিজ্যিক রাজধানী তেল আবিবের ‘তেল নব’ বিমান ঘাঁটি এবং দেশটির গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা শিল্পাঞ্চলগুলোতে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। তবে এই পাল্টাপাল্টি হামলায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেছে, সে সম্পর্কে কোনো পক্ষই এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট তথ্য দেয়নি। যুক্তরাষ্ট্র তাদের ঘাঁটিতে হামলার খবর স্বীকার করলেও কোনো হতাহত হয়নি বলে দাবি করেছে।

এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের এই পাল্টা আঘাতের হুমকির পর কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ লিখেছেন যে, ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে বড় ধরনের কোনো আঘাত হানে, তবে তার পরিণাম হবে ভয়াবহ। ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, ইরান যদি সীমা লঙ্ঘন করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র এমন শক্তি দিয়ে তাদের ওপর আঘাত করবে যা এর আগে কখনো দেখা যায়নি।

অন্যদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতার হত্যার নেপথ্যে আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতি ও গোয়েন্দা তথ্যের আদান-প্রদান নিয়ে নানা মহলে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। খামেনির মৃত্যু এবং ইরানের বর্তমান ‘দিশেহারা’ পরিস্থিতির মধ্যে আইআরজিসি’র এই বেপরোয়া আক্রমণ মধ্যপ্রাচ্যকে এক অনিশ্চিত ও পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here