মার্কিন–ইসরায়েলি হামলায় আয়াতুল্লাহ খামেনিসহ শীর্ষ নেতাদের মৃত্যু: কারা ছিলেন তারা?

0
14
মার্কিন–ইসরায়েলি হামলায় আয়াতুল্লাহ খামেনিসহ শীর্ষ নেতাদের মৃত্যু: কারা ছিলেন তারা?

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমন্বিত হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ দেশটির শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন নেতা নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা (IRNA)। রোববার ভোরে সংস্থাটি ৮৬ বছর বয়সী খামেনির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে। একই হামলায় তার মেয়ে, জামাতা ও নাতিও নিহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এ ঘটনাকে ‘মুসলিমদের বিরুদ্ধে, বিশেষ করে শিয়া সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রকাশ্য ঘোষণা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তিন দশকের বেশি সময় ধরে ইরান শাসন করা খামেনির মৃত্যুতে শোকবার্তায় তিনি বলেন, এটি ইসলামি বিশ্বের জন্য এক কঠিন পরীক্ষা।

ইরনা জানায়, খামেনির পাশাপাশি আরও কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি হামলায় নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন আলি শামখানি, আবদুর রহিম মুসাভি, আজিজ নাসিরজাদেহ ও মোহাম্মদ পাকপুর।

আলি শামখানি:

আলি শামখানি ইরানের নবগঠিত প্রতিরক্ষা কাউন্সিলের সচিব এবং খামেনির ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা ছিলেন। তিনি দেশটির পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার তদারকি করছিলেন। সাম্প্রতিক বৈঠকের পরও তিনি আলোচনায় অগ্রগতির আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন। এর আগে ২০২৫ সালের জুনে ইরান–ইসরায়েল সংঘাতের সময় তার বাসভবনে হামলা হলেও তিনি প্রাণে বেঁচে যান।

আবদুর রহিম মুসাভি:

আবদুর রহিম মুসাভি ছিলেন ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ। এর আগে দীর্ঘ সময় সেনাবাহিনীর প্রধান কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন কর্মসূচি ও সামরিক সক্ষমতা জোরদারে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলে মনে করা হয়। ২০২৩ সালে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়া তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল।

আজিজ নাসিরজাদেহ:

আজিজ নাসিরজাদেহ বর্তমান সরকারের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ছিলেন। তিনি অতীতে বিমান বাহিনীর কমান্ডার ও সশস্ত্র বাহিনীর ডেপুটি চিফ অব স্টাফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক স্থাপনা সুরক্ষায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছিলেন বলে ধারণা করা হয়।

মোহাম্মদ পাকপুর:

মোহাম্মদ পাকপুর ছিলেন ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর প্রধান কমান্ডার। দীর্ঘ সামরিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এই কর্মকর্তা ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় থেকে আইআরজিসিতে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন। গ্রাউন্ড ফোর্সেসের প্রধান হিসেবেও তিনি দীর্ঘদিন দায়িত্বে ছিলেন।

এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত দেশ পরিচালনার দায়িত্ব একটি তিন সদস্যের কাউন্সিলের হাতে ন্যস্ত করা হয়েছে। এতে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, প্রধান বিচারপতি গোলাম-হোসেইন মোহসেনি-এজেই এবং অভিভাবক পরিষদের একজন প্রতিনিধি। ধর্মীয় নেতা আলীরেজা আরাফিকেও এই পরিষদে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

তেহরান থেকে আল-জাজিরার সাংবাদিক জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) ও নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট শীর্ষ ব্যক্তিরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন। নতুন আইআরজিসি প্রধান হিসেবে আহমদ ওয়াহিদির নাম আলোচনায় রয়েছে বলে জানা গেছে।

ঘটনার পর ইরানজুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। তবে এ বিষয়ে এখনো যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

সূত্র: আল-জাজিরা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here