চট্টগ্রামে অপরাধ দমনে মধ্যরাতে সিএমপির ‘এস ড্রাইভ’ অভিযান

0
4
চট্টগ্রামে অপরাধ দমনে মধ্যরাতে সিএমপির ‘এস ড্রাইভ’ অভিযান

বন্দরনগরী চট্টগ্রামে অপরাধীদের আস্তানা নির্মূল এবং অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারে ‘এস ড্রাইভ’ (Simultaneous Drive) বা যুগপৎ বিশেষ অভিযান শুরু করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। রোববার (১ মার্চ) দিবাগত রাত ১২টা থেকে নগরের ১০টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ১০টি পৃথক দলে ভাগ হয়ে পুলিশ সদস্যরা একযোগে এই অভিযানে নামেন। ওসি থেকে শুরু করে অতিরিক্ত কমিশনার পদমর্যাদার কর্মকর্তারা সরাসরি এই অভিযানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

অভিযান শুরুর আগে রাত সাড়ে ১১টায় আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ওয়াহিদুল হক চৌধুরী এই অভিযানের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। তিনি জানান, অপরাধীরা যাতে এক জায়গায় অভিযানের খবর পেয়ে অন্য জায়গায় পালিয়ে যেতে না পারে, সেজন্যই এই ‘সিমালটেনিয়াসলি ড্রাইভ’ বা একযোগে অভিযানের কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে। মূলত সম্প্রতি একটি শিল্পগোষ্ঠীর চেয়ারম্যানের বাসভবন লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণের ঘটনায় নগরবাসীর মনে যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে, তা দূর করতেই পুলিশ এই কঠোর অবস্থানে গিয়েছে। সংশ্লিষ্ট ওই ঘটনাকে ‘বিচ্ছিন্ন’ উল্লেখ করে পুলিশ কর্মকর্তা এ ক্ষেত্রে নিজেদের কিছুটা ব্যর্থতাও অকপটে স্বীকার করে নেন।

পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, ওই গুলিবর্ষণের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের সম্ভাব্য অবস্থান চট্টগ্রামের বাইরে পাহাড়ি এলাকায় বলে তথ্য পাওয়া গেছে। তবে অপরাধে ব্যবহৃত অস্ত্রগুলো শহরের ভেতরেই কোথাও লুকিয়ে রাখা হয়েছে বলে সন্দেহ করছে সিএমপি। নগরীর প্রবেশমুখগুলোতে কড়া নজরদারি থাকায় অপরাধীরা বাইরে থেকে অস্ত্র আনার ঝুঁকি নেয়নি বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই শহরের ভেতরকার সম্ভাব্য সব গোপন আস্তানা ও স্পটগুলো এই অভিযানের আওতায় আনা হয়েছে।

আসামিদের পরিচয় বা অস্ত্রের সঠিক উৎস সম্পর্কে এখনই বিস্তারিত না জানালেও অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, অস্ত্রগুলো সম্ভবত পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হতে পারে। তদন্তের স্বার্থে আসামিদের নাম আপাতত গোপন রাখা হয়েছে। বর্তমানে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের চিরুনি অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here