ইসরায়েলের ওপর হিজবুল্লাহর সাম্প্রতিক রকেট হামলার প্রেক্ষিতে দেশজুড়ে সংগঠনটির সমস্ত প্রকার সশস্ত্র তৎপরতা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে লেবানন সরকার।
সোমবার (২ মার্চ) লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম এই কঠোর সিদ্ধান্তের কথা জানান। সরকারের নীতি ও রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে হিজবুল্লাহ একক সিদ্ধান্তে ইসরায়েলে হামলা চালানোর পর এই নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিল বৈরুত।
লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এবং প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম—উভয়েই হিজবুল্লাহর এই কর্মকাণ্ডকে দেশের সার্বভৌমত্বের চরম লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছেন।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রাষ্ট্র বা সেনাবাহিনীর সাথে কোনো প্রকার পরামর্শ ছাড়াই হিজবুল্লাহর এই আক্রমণ লেবাননকে একটি ধ্বংসাত্মক যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করেছে। পাশাপাশি এটি ইসরায়েলকে লেবাননের ওপর পাল্টা বড় ধরনের হামলা চালানোর একটি বৈধ অজুহাত তৈরি করে দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের এই ঘোষণা অত্যন্ত কঠোর হলেও এর বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা রয়েছে। কারণ দীর্ঘদিনের সংঘাত ও বর্তমান উত্তেজনার মাঝেও হিজবুল্লাহ এখনো পূর্ণ সামরিক শক্তি ও অস্ত্রশস্ত্র বজায় রেখেছে।
একটি স্বাধীন সশস্ত্র গোষ্ঠী হিসেবে সরকারের এই নিষেধাজ্ঞা তারা কতটা মেনে চলবে, তা এখন দেখার বিষয়। তবে এই সিদ্ধান্তের ফলে লেবাননের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও সামরিক ভারসাম্যে এক বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।